২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হতাশার হারে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

editor
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০১৯
হতাশার হারে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

প্রেমাদাসায় বাংলাদেশের জন্য একটুও ‘প্রেম’ জন্মেনি। ক্রিকেট কখনো কখনো কতটা নিষ্ঠুর হয়, তা প্রেমাদাসায় দেখা গেল! একদিকে হতাশায় নুহ্য বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে শিরোপা উল্লাসে শ্রীলঙ্কা।

করুনারত্নেদের সিরিজ জয়ের আনন্দ দ্বিগুণ হয় বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করার সুবাদে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ৪৪ মাস পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উৎসব করেছিল শ্রীলঙ্কা। ওই সিরিজেই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা। প্রায় চার বছর পর আবার হোয়াইটওয়াশের স্বাদ। আহ! কলম্বোজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সেই রেশ।

র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এমন লজ্জা পেতে হবে, তা কি কল্পনাতেও ভেবেছিলেন তামিম ইকবাল? ভাবেননি নিশ্চিত। কিন্তু সিংহের হুংকারে সবকিছুই তো ওলট-পালট। প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ হারল ১২২ রানের বিশাল ব্যবধানে। আগে ব্যাটিং করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৮৭ রানের সুবাদে ২৯৪ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। সিরিজে আরেকবার ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। ১৭২ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।

বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স যেন এক গোলকধাঁধার মতো। এ-ই শুরুটা ভালো হয়, তো শেষটা মন্দ। আবার শেষটা ভালো হয়, তো শুরুটা মন্দ। পারফরম্যান্সের কোনো ধারাবাহিকতাই নেই। অবশ্য পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার জন্য পারফরমারদের ধারাবাহিক হতে হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচেই হারিকেন দিয়ে পারফরমার খুঁজে পাওয়া যায়নি!

অবশ্য ২২ গজে ভাগ্য বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। নয়তো ম্যাথুসের তিনটি এজ কেনই বা চার হবে, মুশফিকের এজ কেন ক্যাচ হবে? আবার ম্যাথুস বড় ইনিংস খেলতে পারেন ভাগ্যের সহায়তায়, সৌম্য ইনিংস বড় করতে গিয়ে এক ভুল শটে ফেরেন সাজঘরে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা লাফিয়ে বল হাতে জমিয়ে নেন, সাব্বির হাত ছুঁয়ে বল পাঠান সীমানের বাইরে! মাঠের খেলায় ভাগ্য যে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

টস হেরে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। নাহ, লঙ্কান শিবিরে ধস নামেনি! ১৫৫ ওভার পর বাংলাদেশের পেসাররা পেয়েছেন মেডেন ওভার! স্বপ্নের শুরু বলতেই হয়, নাকি? শফিউল প্রথম ওভারে কোনো রান দেননি। ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতায় থাকায় পঞ্চম ওভারে এসে পেয়েছেন সাফল্য। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা আভিসকা ফার্নেন্দো এলবিডব্লিউ ৬ রানে।

এরপর বোলাররা কিছু সময় চেপে ধরেছিল লঙ্কানদের। তাতে লাভ হয়েছে। বৃত্তের বাইরের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি দুই বাঁহাতি করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা। ১০ ওভারে স্বাগতিকদের রান ১ উইকেটে ৩৬। রান না তুললেও তাদের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। ‘মন্থর উইকেটে উইকেট জমিয়ে রাখো। শেষ দিকে আক্রমণ করো।’ এমন পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগিয়েছে। মাঝে বাংলাদেশের বোলাররা পেয়েছে সাফল্য। তাইজুল ৪৬ রানে ফেরান করুনারত্নেকে। দলে ফেরা রুবেলের শিকার পেরেরা (৪২)। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে’ অর্থাৎ ১১ থেকে ৪০ ওভার পর্যন্ত ২ উইকেটে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৫২ রান।

হাতে ৭ উইকেট রেখে শেষ ১০ ওভারে আগ্রাসন দেখায় লঙ্কানরা। মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে এই সময়ে ১০৬ রান জমা করেন ম্যাথুস, মেন্ডিস, শানাকারা। চতুর্থ উইকেটে কুশল মেন্ডিস ও ম্যাথুস ১০১ রানের জুটি গড়েন। শেষে শানাকা মাতিয়ে তোলেন পুরো মাঠ। মেন্ডিস ৫১ বলে ৪২, শানাকা ১৪ বলে ৩০ রান করেন। ম্যাথুস দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন শেষ ওভারে। সৌম্যর বলে সাজঘরে ফেরার আগে ৯০ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৮৭ রান।

শফিউল ২ মেডেন নেওয়ার পরও ৬৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। বোলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সৌম্য ৯ ওভার ৫৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। রুবেল, তাইজুল পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

উইকেট দ্বিতীয় অর্ধে আরো বেশি স্লো ও টার্নিং হয়ে ওঠে। রানের পাহাড় ডিঙানোর জন্য তামিমের ক্রিজে থাকা দরকার ছিল। কিন্তু অফফর্মে থাকা তামিম আজ দ্বিতীয় ওভারে সাজঘরে ফেরেন আলগা শট খেলে। টানা ৬ ম্যাচে বোল্ড হওয়ার পর এবার উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২ রানে। তার বিদায়ে রানের চাকা থেমেই গিয়েছিল। সৌম্য ও দলে ফেরা এনামুল হক বিজয় ভুগছিলেন পেস ও স্পিন আক্রমণে। অষ্টম ওভারে বিজয়ের ব্যাটে বাংলাদেশ পায় প্রথম বাউন্ডারি। টানা দুই বাউন্ডারির পর লেগ স্টাম্পের ওপরের বল পেয়ে লোভ সামলাতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২৪ বলে ১৪ করে আউট হন আকাশে ক্যাচ তুলে।

এরপর শুরু হয় আসা-যাওয়ার মিছিল। আগের দুই ম্যাচে ৬৭ ও অপরাজিত ৯৮ রান করা মুশফিক আজ পারেননি দায়িত্ব নিতে। শানাকার বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ১০ রানে ক্যাচ দেন স্লিপে। মিথুন, মাহমুদউল্লাহ ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি আজও। দৃষ্টিকটু শটে ৪ রানে বিদায় নেন মিথুন। মাহমুদউল্লাহ তাকে অনুসরণ করেন ৯ রান করে।

মাহমুদউল্লাহর উন্নতি হয়েছে ধারাবাহিক। প্রথম ওয়ানডেতে ৩, পরেরটাতে ৬, আজ ৯। একবারও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। সাব্বির রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু ধনঞ্জয়ার দারুণ ক্যাচ সব এলোমেলো করে দেয় তার। মিরাজ আগের ম্যাচে ৪৩ করলেও আজ আউট হন সিঙ্গেল ডিজিটে। দুজনকে সাজঘরে পাঠান লাহিরু কুমারা। ১১৭ রানে ৭ উইকেট নেই।

ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং যতটা বাজে ছিল, শেষটা ততটাই সুন্দর। সৌম্য ও তাইজুল কি দারুণ শাসন করেছেন লঙ্কান বোলারদের। ৬১ বলে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর সৌম্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন বড় ইনিংস খেলার পথে। উইকেটের চারপাশে শট খেলে তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ডাউন দ্য উইকেটে এসে শট খেলেছেন, ইনসাইড আউট হয়ে চার মেরেছেন, পয়েন্টের সামনে দিয়ে বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে।

সবকিছুই আজ তার পক্ষে ছিল। কিন্তু ওই একটা ভুল করে বসেন ৬৯ রানে। পেছনের পায়ে ভর করে কাট খেলতে গিয়ে ধনাঞ্জয়ার বল ভেতরে টেনে বোল্ড হন। শেষ হয় তার ৮৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ৬৯ রানের লড়াই।

শেষমেশ তাইজুল লঙ্কানদের জয় দীর্ঘায়িত করেন। ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ৩৯ রান করেন। রুবেল রান আউট হলে অপরাজিত থেকে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি। ওখানেই শেষ বাংলাদেশের লড়াই। দীর্ঘদিন পর এমন সাফল্য পেয়ে উচ্ছ্বসিত শ্রীলঙ্কা। ম্যাথুস সুখস্মৃতি ভুলে না যেতে তুলে নেন স্টাম্প। অধিনায়ক করুনারত্নের প্রথম সিরিজ জয়। তার হাতেও ওঠে স্মারক স্টাম্প।

র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে থাকা বাংলাদেশ এই সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতলে মাত্র ৩ রেটিং পয়েন্ট পেত। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৬ পয়েন্ট। এ সিরিজের আগে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ১১। তিন জয়ে শ্রীলঙ্কা সেই ব্যবধান নামিয়ে এনেছে ৪-এ। বিশাল প্রেমাদাসায় উৎসবটা তাদেরই প্রাপ্য।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
July 2019
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast