২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কূটনৈতিক নাটক মিয়ানমারের

bangla kagoj
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০১৯
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কূটনৈতিক নাটক মিয়ানমারের

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আজ দুই বছর হলো। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলে স্বীকৃত। রাখাইনের ২০১৭ সালের ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা বলছে জাতিসংঘ। কক্সবাজারের বিপুল এলাকাজুড়ে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় যে সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল, দুই বছরে তাদের একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি।

 

কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জোট, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যম বাংলাদেশের পাশে আছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনেকটা আড়ালে রেখে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা হয়েছে দুবারই। মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একধরনের কূটনৈতিক নাটক খেলেছে। চীনের সরাসরি মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সর্বশেষ ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম তারিখ ঠিক হয়েছিল। দুটি চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

 

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে মিয়ানমারের ওপর নতুন করে চাপ আসতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) আর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিজে) রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমার এবার চীনের হাত ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়েছিল। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিন যখন আন্তর্জাতিক মহল কক্সবাজারে চোখ রাখছিল, তখন মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিডোতে দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে দেখা করেন চীনের রাষ্ট্রদূত শেন হেই। রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল চাপ দিলে চীন যে মিয়ানমারের পাশে থাকবে, সেটি তিনি ওই বৈঠকে উল্লেখ করেছেন।

 

এদিকে দুই দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশের পরবর্তী কৌশল কী, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছরের মাথায় প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, চীনের বিশেষ উদ্যোগ ও মিয়ানমারের অনুরোধে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক হয়েছিল। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালু আছে।

 

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলছে মিয়ানমার। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের গত শুক্রবারের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকারীদের কাছে স্বেচ্ছায় ফেরার ব্যাপারে যথাযথ আবেদনপত্র বিলি করা হয়নি। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০০ জনকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বাংলাদেশ অগ্রাহ্য করেছে।

 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার সরকারের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সংকট আছে। কাজেই রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে মিয়ানমারকেই।

 

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ২ বছর হলো

প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা

এখন বাংলাদেশকে দোষ দিচ্ছে মিয়ানমার

 

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। এ সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় পন্থাকে উপায় হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ এ সমস্যা সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উপায়ের কথা সব সময় বলছে। কিন্তু মিয়ানমার যে আসলেই প্রত্যাবাসন চাইছে না, সেটা তারা দুই দফায় প্রমাণ করেছে। কারণ, রাখাইনে এখনো প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ ফেরেনি।

 

এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছর উপলক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের উদাত্ত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনো বৈষম্য অব্যাহত থাকায় কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এটা মিয়ানমার ও বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাসহ রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেরা উপায়। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণভাবে ও টেকসই উপায়ে রাখাইনে তাদের আদি নিবাসে বা পছন্দসই জায়গায় ফিরে যেতে পারে, সে ব্যাপারে মিয়ানমারকে উৎসাহ জোগাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

 


bangla kagoj

সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
August 2019
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast