করোনা আক্রান্ত বা করোনা ভীতির দিনগুলো এবং বাংলা কাগজ (চৌদ্দ) ———— – সেবুল চৌধুরী

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় বিভিন্ন নদী, বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন শাখা প্রশাখা’য় রূপ নিয়েছে। যেমন আমরা যদি ব্রহ্মপুত্র নদীর দিকে তাকাই তাহলে দেখা যায়, চলার পথে তার একটি শাখা নদী হলো ‘যমুনা নদী’।এই যমুনা নদী মিশলো আবার পদ্মা নদীর সাথে ।তবে যমুনা নদীর ও বিভিন্ন উপনদী রয়েছে।যেমন-তিস্তা, ধরলা,করতোয়া,সুবর্ণশ্রী।বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদের চলার পথ খুব একটা বড়ো না,তবে এই নদের অনেক চর আছে। তেমনি বাংলা কাগজের চলার পথে সৃষ্ট “সব্যসাচী”র আবার দুটো ধারা চলমান ।একটি বাংলা কাগজের পাঠক সমাবেশ; অন্যটি ছোট গল্পের সাহিত্যে র সংকলন। সাহিত্যে সংকলন ইতিমধ্যে পাঁচ-ছয়টি সংকলন বের হলে ও দু’তিনটি বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর সম্পাদনায় ছিলেন সাংবাদিক নূরুল ইসলাম ইমন ।এখানে যে কথাটি বলা দরকার, তাহলো কুলাউড়া থেকে ‘সব্যসাচী’ নামে সাহিত্যের ছোট গল্পের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল নিয়মিত না হলেও তা আজও চলমান । এ কারনেই বললাম যে, এই ‘ সব্যসাচী ‘থেকে সিলেট বিভাগে অসংখ্য কবি, সাহিত্যেক,গল্পকার জন্ম দিয়েছেন ।এ জন্য বিশেষ করে সাংবাদিক নূরুল ইসলাম ইমন,প্রয়াত চয়ন জামান চৌধূরী, রেজাউর রহমান জীবন, মাহফুজ আদনানসহ অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন ।

তবে সব্যসাচী পাঠক সমাবেশ ছাতক শাখার উদোগে এক “সব্যসাচী ” নামে এ-ফোর সাইজের ছাপ্পান্নো পৃষ্ঠার একটি ম্যাগাজিন পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলা কাগজের ছাতক প্রতিনিধি বিশিষ্ট সাংবাদিক তপন জ্যোতি তপু, শাহ আখতারুজ্জামান, হামিদুল রহমান বাবলু, জামাল উদ্দিনের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সব্যসাচী’।প্রচ্ছদ একেছেন বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক সজল ছত্রী । গ্রাফিক্সে ছিলেন সালাউদ্দিন। প্রচ্ছদের উপরিভাগে ‘সব্যসাচী’র নীচের মনোগ্রাম কবিতা ও সাহিত্যের ছোট গল্পের ইংগিত বহন করে ।তার নীচে চতুর্বর্গের ভিতরে চারটি ছবি যা মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি ও চেতনা সহ সমগ্র ছাতকের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি রয়েছে। চাঁর ভাগের উপরের বামে রয়েছে-ছাতকের ‘শিখা সতেরো’। এ শিখা জ্বলে না।তবে যাঁরা মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদেঁর হৃদয়ে এই শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে। উলেলখ্য যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিকামী সতেরো জন যোদ্ধাদের এখানে ধরে এনে তাঁদের দিয়ে বিরাট কবর খোড়ায়ে, পরে এখানে ফেলে দিয়ে জীবন্ত কবর দেয়।তার ডানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘রোপ লেন ব্রীজ’।১১৯টি ট্র্যাসেলের ওপর ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে লাইন রয়েছে। এ রোপওয়ে লাইন দিয়ে ভোলাগন্জ থেকে উন্নত মানের বড় বড় পাথর ছাতক আনা হয়।পরবর্তীতে তা সড়ক, রেল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় ।নীচের অংশের বামে রয়েছে ‘লাফার্জ সিমেন্ট কোম্পানী’।ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর পাশ ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’।এ ফ্যাক্টরী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সিমেন্ট উৎপাদনকারী কারখানা ।ডানে রয়েছে ছাতকের ‘শিব মন্দির’ । তবে ‘সব্যসাচী’ এই ইস্যুর জন্য কোন বিনিময় নয়, তবে খূচরা মূল্য–৩০ টাকা ।

‘ সব্যসাচী’র এ সংখ্যায় নিজ বাণী দিয়ে যাঁরা স্বাগত জানান, তন্মধ্যে জনপ্রজাতন্তী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম, এ মান্নান (তৎকালীন সংসদ সদস্য সুনামগঞ্জ-৩), সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, তৎকালীন ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধূরী মিজান, ছাতক পৌরসভার চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধূরী, বাংলা কাগজের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খসরু খান, সুজিত কুমার রায়(উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ছাতক সুনামগঞ্জ),আবুল কালাম আজাদ (চেয়ারম্যান বাংলা কাগজ),সৈয়দ কবির আহমেদ(ডাইরেক্টর বাংলা কাগজ),আব্দুল কাদির আবুল(ডাইরেক্টর বাংলা কাগজ),আব্দুল মুত্তালিব চৌধূরী সেবু(তৎকালীন উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি বাংলা কাগজ),মুজিবুল হক রাজু (ডাইরেক্টর বাংলা কাগজ),অধ্যাপক ফরহাদ আহমদ (সম্পাদক সাপ্তাহিক আমাদের বাংলা কাগজ), এম, এ মালেক খান (তৃতীয় বাংলা ব্যুরো চীফ সিলেট),এডভোকেট হুমায়ূন মন্জুর চৌধূরী (সাবেক সভাপতি সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতি),সিতাব আলী (কোয়ান্টাম মেথড,সিলেট ),মোঃ মুহিবুর রহমান(পরিচালক হিলসিটি),এডভোকেট বজলুল মজিদ খসরু, কবির খান (প্রতিষ্ঠাতা ডাইরেক্টর, এস, কে,এন,চাটার্ড একাউন্ট),এডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু,সৈয়দ আলা উদ্দিন (মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার),নিজাম উদ্দিন (ইউ পি চেয়ারম্যান),আজমান আলী(সভাপতি),হুমায়ূন কবির (সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট),রাজু আহমদ সোহেল ।

 

” সব্যসাচী ” এই ইস্যুতে যাঁদের প্রবন্ধ নিবন্ধ স্হান পেয়েছে তন্মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ডক্টর জাফর ইকবাল।শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো লিখক ।লেখকের সাবলীল ও পরিচ্ছন্ন চিন্তা যে কোন পাঠককে এমনভাবে আকর্ষণ করে, যা আরম্ভ করলে শেষ করতে হয়।প্রফেসর ওমর ফারুক লিখেছেন , বাংলা কাগজের সাধারণ সম্পাদক খসরু খানের জীবন ও কর্মের একটি বিশেষ প্রবন্ধ ।গল্পকার মাহমুদ আলী লিখেছেন ছোট গল্প যা শেষ হয়ে ও হয় না।সিলেটের গন মানুষের কবি দিলওয়ার ভাষা,যখন মাতৃভাষা” শিরোনামে । কথা সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সেলিম আউয়াল লিখেছেন,ছোট গল্প নদী বহে নিরবধি।সাংবাদিক তপন জ্যোতি তপু বৃটিশ আমল থেকে শুরু ২০১০ সাল পর্যন্ত ছাতক -দোয়ারার রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রিয় মুখগুলোর কথা তুলে ধরেন ।তাছাড়া ‘ছাতকের শিখা ১৭’ ‘দোয়ারার বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধের ইতিকথা’ সহ শিল্প নগরী ‘ছাতকে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র ‘ ছাড়া ও ঐতিহ্যবাহী ছাতক সিমেন্ট কারখানার পটভূমির উপর বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ রয়েছে । এছাড়া আরো অসংখ্য গল্প ,ছোট গল্প, ছড়া ও কবিতা রয়েছে । ——- চলবে–।

লেখক: কলামিস্ট এবং বাংলা কাগজের সহ-সম্পাদক। বার্মিংহামে বসবাসরত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *