বাড়িতে বসেই মডেল টেস্ট

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের মতো বন্ধ আছে পঞ্চগড়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে, এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীরা রয়েছে বিপাকে। সামনে বোর্ড পরীক্ষা থাকলেও পড়াশোনায় তাদের নেই প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং জবাবদিহিতা।

এ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে সফলও হয়েছেন তারা।

প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীর নির্দেশনায় বাড়িতে বসেই শিক্ষার্থীরা দিয়েছে মডেল টেস্ট। পরীক্ষায় সময় পরিদর্শক ছিলেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মা।

গত ২৯ ও ৩০ জুন এ মডেল টেস্ট হয়। এর আগে স্কুল থেকে প্রশ্ন তৈরি করে খামে ভরে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রশ্ন দিয়ে রুটিন অনুযায়ী মায়েরা তাদের সন্তানদের পরীক্ষা নিয়েছেন। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা দিয়ে মায়ের হাতে খাতা তুলে দিয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকুল চন্দ্র রায় জানান, সাধারণত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি হিমশিম খায়। তাই শুধু এই দুই বিষয়েই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় দশম শ্রেণির ৫০ জন এবং অষ্টম শ্রেণির ৬০ জন অংশ নেয়।

ব্যতিক্রমী এ উদ‌্যোগ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিতে পেরে শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত।

নাসিমা খাতুন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এটি অনেক ভালো উদ্যোগ। যেদিন পরীক্ষা ছিল, সেদিন মেয়েকে আমি ১০টার আগেই খাইয়ে পরীক্ষায় বসিয়ে দেই। ১০টায় খাতা ও প্রশ্ন বের করে দেই। টানা তিন ঘণ্টা আমি বসে দেখভাল করছি।’

রিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঘড়ির কাঁটা ধরে ঠিক ১০টায় মা খাতা ও প্রশ্ন দেন। দুপুর ১টা বাজতেই খাতা নিয়ে নেন।’

নাজমা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এত বড় ছুটিও কখনো পাইনি। তাই সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে মায়ের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নতুন অভিজ্ঞতা।’

রাধানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, ‘এটি প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়। করোনার মধ্যে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দি হয়ে আছে। বিদ্যালয়ে আসতে না পারায় তারা দিন দিন অলস হয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়ছে পড়াশোনা থেকে। তাই আমরা বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাড়িতেই তাদের মডেল টেস্ট নেওয়ার উদ্যোগ নেই, যাতে তারা লেখাপড়া নিয়মিত করার উৎসাহ পায়।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, ‘রাধানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্য বিদ্যালয়গুলোর জন্য অনুকরণীয়ও।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *