শ্রাবণ মেঘের দিন : উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের পার্থক্য

হুমায়ূন আহমেদের পাঠকমাত্রই জানেন তার বৃষ্টিবিলাস ও জোছনাপ্রীতির কথা। অসংখ্য উপন্যাস, গল্প, নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি নানাভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন শৈল্পিক সুষমায়। বাংলার বৃষ্টি মানেই তো শ্রাবণ। আর হাওরাঞ্চলে শ্রাবণের বৃষ্টি, অথৈ পানি, পুবালি বাতাস সে তো প্রকৃতির এক মোহনীয় রূপ। হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সেই রূপের অনুরাগী। তাই বোধহয় তার শ্রাবণের প্রতি এত দুর্বলতা। আর এমনি এক শ্রাবণেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তাই এ শ্রাবণে লিখতে বসেছি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ও চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ নিয়ে কিছু কথা। শ্রাবণ মেঘের দিনে যেমন রয়েছে ভালোবাসা, বৃষ্টি, জোছনার গল্প; তেমনি আছে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সংকটের কথা। দরিদ্র মানুষের দিনযাপনের কথা।

শ্রাবণ মেঘের দিন উপন্যাস হিসাবে প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে আর চলচ্চিত্র হিসাবে মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। যে সময় শ্রাবণ মেঘের দিন উপন্যাস হিসাবে প্রকাশিত হয়। শ্রাবণ মেঘের দিন হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। তাই শ্রাবণ মেঘের দিন নির্মাণকালে তিনি আর নবীন পরিচালক ছিলেন না। আগুনের পরশমনি বোদ্ধামহলে বেশ আলোচিত হয়, জিতে নেয় কয়েকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার। তাই স্বাভাবিকভাবেই শ্রাবণ মেঘের দিন নির্মাণকালে হুমায়ূন আহমেদ আত্মবিশ্বাসে ও অভিজ্ঞতায় বলীয়ান হয়েই আবির্ভূত হন। এর কিছু নমুনা আমরা পেয়েও যাই তার ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে।

সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়নে নির্মাতার স্বাধীনতা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। একটি উপন্যাস কিংবা গল্পের চলচ্চিত্র রূপায়নে নির্মাতা মূল ভাবকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়ে নিয়ে যান। এতে মূল কাহিনির অনেক কিছুই বাদ দিতে হয় কিংবা চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে কিছু সংযোজনও করতে হয়। তাতে উপন্যাসের মূল সুর যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে পরিচালক রাখেন সজাগ দৃষ্টি। তবে পাঠক যখন চলচ্চিত্রে উপন্যাসের বা গল্পের মিল খুঁজে বেড়ান; তখন বিভ্রম তৈরি হয় কিংবা একজন চলচ্চিত্র সমালোচক যখন হাতে উপন্যাস বা গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র দেখতে বসেন; তখন পরিচালকের জন্য আরেক বিড়ম্বনা তৈরি হয়। সত্যজিৎ রায়কে পর্যন্ত সেসব সমালোচকের বিরুদ্ধে কলম হাতে নিতে হয়েছে এবং রীতিমত বিশ্লেষণ করে তার জবাব দিতে হয়েছে।

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *