২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

মফিজ এবং জল-পেয়ারার গল্প

editor
প্রকাশিত জুলাই ৩০, ২০২০
মফিজ এবং জল-পেয়ারার গল্প

দৃষ্টিজুড়ে বিস্তীর্ণ জলরাশি। এই সময় এই গ্রামে মাঠের পর মাঠ ধানে-জলে ভরে থাকার কথা ছিল। সাধারণত প্রত্যেক বছর এই সময়ে এই এলাকার মাঠ ধানে-জলে মিলে-মিশে একাকার থাকে। কিন্তু এ বছর কী যে হলো! কোথা থেকে পানি এসে গোটা মাঠসহ সব ডুবিয়ে দিল। গোটা মাঠের একবিঘা জমিও আর নেই, সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর সাথে তলিয়ে গেছে আহমপুরের মানুষের স্বপ্ন! কত মানুষের কতই না ইচ্ছা করেছিল; করোনা চলে গেলে সব কিছু স্বাভাবিক হবে। এলাকার মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, সকল শ্রেণিপেশার মানুষ আবার কাজে উদ্যমী হবে।

নদী উপচে পানি এই গ্রামে ঢুকে পড়েছে; ডুবে গেছে শত শত ঘর-বাড়ি। গ্রামের কিছু উঁচু বাড়ি শুধু পানিতে ডোবেনি। সেখানে অনেকেই নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের প্রধান রাস্তাটিও এখন পানির নিচে। এই গ্রামেই আখিজাদের বাড়ি। আখিজা ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পোড়ালেখা করেছে। এখন মাঝে মাঝে বাবার সাথে কাজ করে। গত বছর থেকে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। আখিজা বাবার জমিতে কাজ করে, বাবার সাথে নাও নিয়ে মাছ ধরতে যায়। একদিন মেম্বার চাচা বলল, ‘কেরে মফিজ, তুই জুয়ান মাইয়ারে লিয়ে মাছ ধরিস ক্যা? অর বিয়ার বয়স হৈছে, অক বিয়ে দেওয়া লাগবি নারে?’ আখিজার আব্বা বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ওই যদি আমার পুলা হইতো আমার সাথে আইসত্ত না? এখন বিটা ছাওয়াল নাই, তাই কাজে-কামে অরে লিয়ে আসি। আমি তো দোষ দেইখলাম না; তুমি আবার কী বুঝলা মেম্বার? আর মাইয়াডার কতই বয়েস হইছে?’

তারপর থেকে মফিজ মিয়া আখিজাকে কাজের সময় সাথে খুব একটা নিতো না। আখিজার একটি নতুন বোন হয়েছে। বাবার নামের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছে মফিজা খাতুন। আখিজার মায়ের নাম হাফিজা খাতুন। হাফিজার মেয়ের নাম আখিজা-মফিজা। আখিজাদের একটি পেয়ারার গাছ আছে। এই গাছটি আখিজা নার্সারি থেকে এনে লাগিয়েছিল। খুবই সুস্বাদু আর মিষ্টি পেয়ারা, আকারে-ফলনেও ভালো।

 


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast