করোনা আক্রান্ত বা ভীতি’র দিনগুলো এবং বাংলা কাগজ  (এক)

শেবুল  চৌধুরী  : করোনা’ কালের সময়ের নোট করা ডায়েরি’র পাতাগুলো যখন দেখছিলাম, ঠিক তখন বাংলা কাগজের চেয়ারম্যান আজাদ আবুল কালাম ভাইয়ের টেলিফোন । লিখার তাগিদ। কাগজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কিছু লিখতে হবে ।আজাদ ভাইকে বললাম, আমি অসুস্থ, শরীর ভালো না , তবে যখন পারি লিখবো।তারপর আজাদ ভাই’র কাছ থেকে জানতে চাইলাম করোনা কালের এই সময়ে বাংলা কাগজ বের করা হচ্ছে কি না ? তিনি বললেন, আমাদের অন লাইন সার্ভিস চালু আছে। তা’ছাড়া লক ডাউনে’র এই সময়ে আমাদের সংবাদ কর্মীরা মৌলভীবাজার থেকে ‘বাংলা কাগজ’ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছেন ।শুনে এত ভালো লাগলো এ কারনে যে,করোনার এই সময়ে যখন সারা বিশ্ব লক ডাউন, ঠিক তখন অদৃশ্য শক্রুর ভয়কে উপেক্ষা করে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বের শত শত সংবাদ কর্মীদের মত ‘বাংলা কাগজে’র সংবাদ কর্মী রা। তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ।স্যালুট জানাই তাঁদের ।মহাকালের হিসেব অনুযায়ী সতেরো বছর খুব কম সময়

তবে একটি সংবাদ পত্র প্রকাশনার ক্ষেত্রে সতেরো বছর পূর্ণ করা চাট্টিখানি কথা নয় ? তাও একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে বৃটেন,স্পেন,ফ্রান্স,ইতালি, এবং সিলেট থেকে ।তবে বাংলা কাগজের মূল বেইস হচ্ছে বার্মিংহাম । ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি অনেক সংবাদ পত্র আতুঁড় ঘর না পেরোতেই মুখ থুঁবড়ে পড়তে ।সে ক্ষেত্রে প্রকাশনার সতেরো বছর পেরিয়ে আঠারো’তে পা রাখলো প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ।প্রায় সতেরো বছর পর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ‘বাংলা কাগজ’ এদেশের সংবাদ পত্র জগতের আধুনিকতার প্রতীক । বিগত দু’হাজার তিন সালে দিকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও সাংবাদিক রিয়াদ আহাদ ও শেখ ইলিয়াছুর রহমানের নেতৃত্বে একদল উদ্যোমী সংবাদকর্মী কমিউনিটি সেবার প্রত্যয় আর তারুণ্যের দুরন্ত সাহসকে সম্বল করে পাঠকের সামনে নিয়ে আসেন ‘বাংলা কাগজ’ নামক সংবাদ পত্রকে। শুরুতেই সাংবাদিকতার প্রথাগত কাঠামো ভেঙ্গে আধুনিক ধারার চর্চা শুরু হয় বাংলা কাগজে ; প্রতিকা’টির মাস্টহেডের উপর লেখা রয়েছে –‘প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি’–তার ঠিক উপরে রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ প্রতিকা’র নাম বাংলা কাগজ ।প্ৰথম ইস্যুটি প্রকাশিত হয়েছিল আটচল্লিশ পৃষ্ঠায়।সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল প্রত্রিকাটি’র প্রকাশনা উৎসব একটি দিনে বৃটেনে লন্ডন, স্পেনের বার্সেলোনা, বাংলা দেশের সিলেটে।লন্ডনের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে কাগজের মোড়ক উন্মোচন করেন যুক্তরাজ্যস্হ বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন হাইকমিশনার মোফাজ্জল করিম।সে সময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মেয়র আব্দুল আজিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিসট সদ্য প্রয়াত ইসহাক কাজল, বিশিষ্ট ছড়াকার দিলু নাসের ।

সিলেটের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলা কাগজের মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ,এবং একই সময়ে বার্সেলোনায় ও বাংলা কাগজের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

শুরুতেই একটা কঠিন সময় অতিক্রম করেছিল বাংলা কাগজ ।অর্থনৈতিক টানাপোড়ন এবং বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে এগুলোতে হচ্ছে বাংলা কাগজ পরিবার। প্রধান সম্পাদক প্রয়াত শেখ ইলিয়াছুর রহমান লন্ডনের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তথা কুশিয়ারা ম্যানি- ট্রান্সপার,রহিম বাদ্রার্স সহ ব্রিকলেনের বড় বড় বিজনেস প্রতিষ্ঠানের দুয়ারে দুয়ারে পাঁয়ে হেঁটে হেঁটে বিজ্ঞাপন কালেকশন করতেন। কারন পেপার না দেখিয়ে বিজ্ঞাপন আনা মুখের কথা নয়? এগুলো (বিজ্ঞাপন) আসতো মূলতঃ শেখ ইলিয়াছুর রহমানের কারনে । তখন বাংলাদেশ থেকে চীফ কোর্ডিনেইটর সাহাদুল সুয়েদ পেপার ছাপা হওয়ার পর সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে পরিচিত লন্ডন যাত্রী কাউকে তাদেঁর মালের সাথে ওজন করে দিয়ে দিতেন ।কিন্তু বৃটেনের হিথ্ৰরো বিমান বন্দর বলেন,আর লন্ডন, কিংবা অন্য কোন শহর বলেন, সেখান থেকে প্রথমেই কালেকশন করতেন শেখ ইলিয়াছুর রহমান । এ রকম ভাবে প্রথম পর্যায়ের ঝুঁকিটা শেখ ইলিয়াছুর রহমান নিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সম্পাদক মন্ডলী’র সভাপতি আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন শিক্ষাবিদ এবং নেশায় সাংবাদিক হলেও তাঁর বুঝতে বাকি থাকলো না যে বৃটেনের এই মাল্টিকালচারাল সোসাইটিতে প্রিন্ট কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সাফল্য অর্জন করতে হলে লকেল কমিউনিটি’র উপর ভিত্তি করে দাঁড় হতে হবে ।এবং সে পথেই তিনি এগিয়ে চললেন ।যাঁর ধারাবাহিকতায় বাংলা কাগজ পরিবার প্রথম সভার আয়োজন করে বার্মিংহামের পেশোয়ার রোডের আকাশ রেস্টুরেন্টে।পরবর্তীতে আরো বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সভা করে কাগজকে এগিয়ে যেতে হলো।এখানে উলেলখ্য যে,নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদ আহাদ পরবর্তীতে স্পেন থাকার কারণে সম্পাদক মন্ডলী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ অনেক কিছু সামাল দিতে হয়েছিল ।বিজ্ঞাপন কালেকশন করা,নিউজ কালেকশন করা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা’র ইন্টারভিউ লওয়া , কাগজের বিভিন্ন বিভাগের জন্য দায়িত্ব দেওয়া ,পেপার কালেকশন, ডিস্ট্রিবিউশন করা কত কিছু । আর্থিক সংকটের কারণে পত্রিকা বাংলাদেশ থেকে কয়ক’শ ছাপিয়ে গ্রোসারী শপের কাঁচামালের সাথে আনা হতো।তা ও সম্ভব হয়েছিল বাংলা কাগজের অন্যতম ডাইরেক্টর (বাংলাদেশ) মুজিবুল হক রাজু এবং সোনালী সুপার মার্কেটের ম্যানেজিং ডায়রেক্টর শেখ বশির উদ্দিন সাহেবের সহযোগিতায় । সে সময় এগিয়ে এলেন বার্মিংহামের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা জনাব আব্দুল মোতাল্লিব চৌধূরী সেবু।যিনি সম্পাদককে (আজাদ আবুল কালাম) নিয়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পরিচিতি বন্ধু-বান্ধবকে কাগজের জন্য গ্রাহক বানাতে শুরু করলেন । সেই সাথে দেশের গনতান্তিক অভিযাত্রা এবং কমিউনিটি’র প্রত্যাশা নিয়ে বাংলা কাগজ এগিয়ে চলতে লাগলো। এক সময় বাংলা কাগজ চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে । এমনি এক সময় বাংলা কাগজের ডায়রেক্টর হিসেবে যোগ দিলেন বার্মিংহাম বাঙালী কমিউনিটি’র অত্যন্ত সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব খসরু খান ( বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদ ) ও আলহাজ্ব আব্দুল কাদির আবুল ( প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব) । তাঁদের যোগদানের মাধ্যমে ‘বাংলা কাগজ ‘শুধু সংবাদ পত্র হিসেবে না থেকে কমিউনিটি’র প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংগঠন হিসেবে ও কাজের প্রক্রিয়া শুরু করলো ।গঠন করা হলো ‘বাংলা কাগজ ‘ কোম্পানি । কোম্পানি ফরমেইশনের পুরো কাজটি সম্পন্ন করলেন আলহাজ্ব খসরু খান । চেয়ারম্যান (বাংলা কাগজ)আজাদ আবুল কালামের তত্ত্বাবধানে সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব খসরু খান এবং বাংলা কাগজের ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর আলহাজ্ব আব্দুল কাদির আবুল, রহুল আমীন চৌধূরী মামুন (ডায়রেক্টর বাংলা কাগজ), সৈয়দ কবির আহমেদ (ডাইরেক্টর বাংলা কাগজ) সহ সবার নিরলস প্রচেষ্টা এবং যুগোপযোগী নানান পরিকল্পনায় বাংলা কাগজকে এগুতে থাকে। নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলতে গিয়ে জনাব খসরু খান বলেন,’দারুস সুন্নাহ ইসলামিক সেন্টারের এক সভার পর প্রসঙ্গক্রমে বাংলা কাগজের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ শঙ্খা প্রকাশ করে বললেন, মনে হয় কাগজ চালানো সম্ভব হবে না?কারণ হিসেবে মূলতঃ অর্থনৈতিক দায়ভাগ। সে সময় একটা ইস্যু বের করতে প্রায় তিন’শ পাউন্ডের কাছাকাছি লাগতো ।তখন আমি ছিলাম বি,সি,ডি’র (বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট) চেয়ার। তা’ছাড়া আমার নিজের ও ইচ্ছা ছিল বার্মিংহাম থেকে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করার।যেহেতু একটা কাগজ আছে সেহেতু এই কাগজ বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে আমার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। আমি আজাদ ভাইয়ের সাথে এ নিয়ে দু’একটি মিটিং,পাশাপাশি আমার কমিটির সাথে আলোচনা করে বিজ্ঞাপনের ( বি,সি,ডি’র) জন্য একশত পাউন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আর তখন থেকেই আমার সম্পৃক্ততা এবং আমার সাথে বি,সি,ডি’র ট্রাস্টি এস, এম ,ওয়াহিদ এবং ট্রেজারার ইকবাল আহমদ বাংলা কাগজের উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন’ । বাংলা কাগজ পরিবারের সদস্যরা কত যে ভিন্ন রকমের কাজ করেছেন, তার কোন ইয়েত্তা নেই ।পেপার আসার পর রাত জেগে জেগে খামের মধ্যে ষ্টাম সংযুক্ত করা, পেপার পোস্ট করা,ইত্যাদি ।সার্কুলেশন বৃদ্ধির সাথে সাথে এ কাজ ও সামাল দেওয়া কঠিন ছিল ।তাই অনেক সময় অনেকের পরিবারের সদস্যরা ও সহযোগিতা করেছেন ।এ প্রসঙ্গে বাংলা কাগজের ফাইনান্স ডাইরেক্টর আব্দুল কাদির আবুল জানান, ‘বাংলা কাগজ পোস্টিংয়ের ব্যাপারে অনেক সময় আমার সাথে আমার স্ত্রী, আমার ভাতৃদ্বয় যথাক্রমে মোঃআনোয়ার হোসেন, মোঃ আজাদ হোসেন প্রমুখের যথেষ্ট অবদান রয়েছে’ ।

এদিকে নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদ আহাদ স্পেন থেকে ফেরলেন তখন নিদারুন অর্থকষ্ট থামছে ধরছে বাংলা কাগজ কে ; রিয়াদ আহাদ যেহেতু জন্ম লগ্ন থেকে বাংলা কাগজের সাথে জড়িত, সেহেতু বাংলা কাগজের নাড়ী ভুঁড়ি তিনি জানেন । তাই এক ঝাঁক নতুন মিডিয়া কর্মী নিয়ে কাজ করতে লাগলেন সাংবাদিক রিয়াদ আহাদ ।সংগে বাংলা কাগজ কর্মীরা;এটাই আমাদের পত্রিকা;আমরা এঁকেই বাঁচাবো। বাংলা কাগজের জন্মদিনের কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়লো করোনা’র এই ক্লান্তি লগ্নে কাগজের সতেরো তম জন্মদিনের কোন উৎসব নেই, নেই কোন রং-ঢং,নেই কোন মিলাদ কিংবা কেক কাঁটা ,অথচ বিগত কয়েক বছর থেকে লক্ষ্যে করে আসছি,বাংলা কাগজে’র জন্ম উৎসব পালন করা হতো বৃটেনের লন্ডন, বার্মিংহাম,স্কটল্যান্ড, স্পেনের মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ফ্রান্সের প্যারিস, কানাডার মন্ট্রিয়েল,বাংলাদেশের সিলেট ও কুলাউড়া’য় বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে । বাংলা ভাষায় প্রকাশিত কোন সংবাদ পত্রের এ রকম জন্ম দিন পালন করার কোন তথ্য আমার জানা নেই ।তবে এবার বাংলা কাগজ কতৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে এই মহামারী’র সময় যৎ সামান্য হলেও বাংলাদেশের মিডিয়া কর্মীদের আর্থিক সহায়তা করেছেন।যাক বলতে ছিলাম নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদ আহাদের কথা ।স্পেন থেকে ফিরে এসে বাংলা কাগজের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে লাগলেন ।সাথে সাথে গ্রেইটার সিলেটের প্রতিটি থানার পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা সহ বৃটেনের বিভিন্ন শহরে প্রতিনিধি নিয়োগের ফলে আসতে থাকে,বিভিন্ন দেশ,শহর ও থানার সংবাদ । সেই সাথে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে সংবাদ শিরোনাম থাকতো ।তবে সিংহভাগ সংবাদ শিরোনাম হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো বৃটেন ও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হালচালের উপর ।সংবাদ কর্মীরা যেমন সত্য প্রকাশে ছিলেন অবিচল তেমনি মুক্তমত নিয়ে ফিচারের পাতা ভরপুর থাকতো নতুনত্ব ও বিষয় বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ।এ ক্ষেত্রে লেখকদের লেখার ঢং ও উপস্থাপনা ছিল আকর্ষণীয়। নিয়মিত বা অনিয়মিত ভাবে কলাম লেখকদের মধ্যে রয়েছেন,সজল ছত্রী, সাহাদুল সুয়েদ, মাহফুজ আদনান,রিয়াদ আহাদ,মোঃ শেবুল চৌধূরী, আমিরুল ইসলাম বেলাল,ইকবাল আহমদ চৌধূরী, আলহাজ্ব আব্দুল মালিক পারভেজ, মাফিজ খান, রেজা আহমেদ ফয়ছল চৌধূরী সোয়েব, আব্দুল কাদির আবুল, রুহুল আমিন চৌধূরী মামুন,সৈয়দ মাছুম, কাজী লোকমান হোসেন ,মোঃ জয়নাল ইসলাম, আব্দুল আহাদ সুমন, সৈয়দ ইকবাল, সৈয়দ নাসির, মুহিদুল গনী মাহতাব, আমিনা বেগম, আলহাজ্ব আলী ইসমাইল, সোয়েব চৌধূরী, আব্দুল মালিক, সৈয়দ আতাউর রহমান পানু প্রমুখ।সাহিত্যের পাতায় অনেক নবীন প্রবীণ কবি সাহিত্যেকদের কবিতা, গল্প থাকতো।কবিদের মধ্যে নিয়মিত যাঁদের কবিতা পাঠকদের মন কাড়ে তন্মধ্যে কবি মুহিদুল গনী মাহতাব, কবি আমিনা বেগম, কবি ফয়জুর রহমান চৌধূরী ,কবি সৈয়দ ইকবাল, খায়রুন নাহার চৌধূরী লাভলী, হাসান তানকিউল,কবি সৈয়দ মাছুম প্রমুখ ।রান্না-বান্নার পেইজে নানান রকম রেসিপি’র নিয়ে আছেন ফাইমা হোসেন লিজা।বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি সেকশন রয়েছে, যা তদারকি করতেন মোঃ খসরু খান । যার ফলে অতি দ্রুত গতিতে পাঠক প্রিয়তা অর্জন করে বাংলা কাগজ ।

এ ক্ষেত্রে আমি বাংলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক ‘রিয়াদ আহাদের মধ্যে বাংলাদেশের সংবাদ পত্রের চরিত্র বদলে দেওয়া সাংবাদিক নাইমূল ইসলাম খানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই ।দিনরাতকে এক করে ভাবতে পারা, ভাবনাকে কাজে পরিণত করা, এবং একেবারে পড়িয়ে যেঁতে যেঁতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারাটা ও একটা শিক্ষা,যা বৃটেনের কোন বাংলা সংবাদ মাধ্যম এভাবে টিকে থাকতে দেখিনি। সংবাদ পত্র প্রকাশনার মতো বিরাট অর্থনৈতিক ঝুঁকি থাকা সত্বেও কেন এ পথে পা দিলেন,এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদ আহাদ বলেন,

অনেকটা কাকতালীয় ভাবে সাংবাদিকতায় আসা ।ছাত্র রাজনীতির উত্তাল সময়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ভাইয়ের কাছে তখন সিলেট থেকে নিয়মিত দৈনিক দিনকাল (স্হানীয় রিপোর্টার) , দৈনিক জনকণ্ঠ (কূলাউড়া প্রতিনিধি) ও সাপ্তাহিক অনুপম

( ব্যুরোপ্রধান মৌলভীবাজার জেলা) আসতো । আজাদ ভাই কলেজ ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আমরা তথা আমি ও আমার এলাকার ছোট ভাই তুল্য কয়ছর রশীদ,(মানব জমিনের সাবেক ষ্টাফ রিপোর্টার,বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী) ও তুতিউর রহমান (দৈনিক দিনকালের সাবেক কুলাউড়া প্রতিনিধি বর্তমানে স্পেন প্রবাসী)   মিলে সংবাদপত্রের জন্য কাজ করতে লাগলাম ।বিশেষ করে অনুপম প্রত্রিকা কূড়াউড়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।তার মূল কারণ ছিলো আমরা লেখালেখি(শখের বসবতি হয়ে) থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন, সংবাদ কালেকশন, রিপোর্টিং সহ সব কিছুই করতে লাগলাম । আমরা শুধু কুলাউড়া নয়, বরমচাল,ভাঁটেরা, ,কমলগন্জ,জুড়ি, ফেন্সচুগন্জ,মৌলভীবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মোটর বাইক যোগে আমরা ডিস্ট্রিবিউশন করতাম। যাঁর ফলে দেখা গেল মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আমরা অনুপমের সার্কুলেশন তিন’শ থেকে তিন হাজারে নিয়ে গেলাম ।এরই ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে ‘ মানব ঠিকানা’ পত্রিকার সাথে জড়িয়ে পড়ি।কিন্তু বাদ সাঝে আমার রাজনীতি ।ছাত্র রাজনীতির কারণে এক সময় ফেরারী হয়ে আমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল ।প্রথমেই ডুবাই ;অতঃপর মরক্কো হয়ে স্পেন তারপর যুক্তরাজ্য ।দেশ ছাড়ার সাথে সাথে রাজনীতি ছেড়ে দিলে সাংবাদিকতার ভূঁত মাথায় থেকেই যায় ।ডুবাই,মরক্কো, স্পেন সব জায়গাতেই সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলাম । সেই ভাবনা থেকে আমি লন্ডনে আমার শ্রদ্ধেয় মামা মরহুম শেখ ইলিয়াছুর রহমানের সাথে মতবিনিময় করি ।এ ব্যাপারে মামা পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করলে আমরা পরিকল্পনা সহ প্রকাশনার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি।এখানে লাভ-ক্ষতির হিসেব খতিয়ে দেখি নাই ।মূলতঃ সৃষ্টির প্রয়াসটা এখানে মূখ্য ছিলো ‘।তবে আমি মনে করি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম শেখ ইলিয়াছুর রহমান না থাকলে ‘বাংলা কাগজ ‘ প্রকাশের যাত্রা অনেক কঠিন ছিল । বাংলা কাগজের প্রতি মামার(শেখ ইলিয়াস আলম)যে দরদ তা কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে বাংলা কাগজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু’র কিছু দিন পর(2004) লন্ডনের বৈশাখী মেলা’য় বাংলা কাগজের স্টল ছিলো।তখন শেখ ইলিয়াস আলমকে দেখেছি লন্ডন হিথ্ররো থেকে বাংলা কাগজ কালেকশন করে গাড়ি মেলার স্টলের কাছে না আনতে পারলে নিজের দু’হাতে দুবান্ডিল,এবং মাথায় দু’বান্ডিল করে কাগজ গুলো মেলা’র স্টলে আনেন।সাথে বাংলা কাগজের অন্যতম ডাইরেক্টর মিসেস সোফিয়া আলম ও কাগজের বান্ডিল হাতে করে নিয়ে আসছেন ।সাপ্তাহিক সুরমা’র প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ বশির আহমেদের পর মিসেস আয়েশা আহমেদ যেভাবে সুরমা’র হাল ধরেছিলেন অনেকটা সেরকমই সোফিয়া আলম আজও আছেন বাংলা কাগজের সংগে।বাংলা কাগজের প্রশ্নে শুধু এটুকুই বলবো, বাংলা কাগজ যদি কোন শিল্প হয়,সেই শিল্পের নিখুঁত শিল্পী শেখ ইলিয়াস আলম ।

 

—চলবে—।

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *