স্পেনে করোনার দ্বিতীয় ধাপের আশঙ্কা, নতুন করে বাংলাদেশিরাও আক্রান্ত

সাহাদুল সুহেদ :   মাসাধিক করোনার সংক্রমণ নিম্নমূখী থাকার পর স্পেনে আবারো প্রতিদিন হাজারের অধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশটির ১০টি অঞ্চলে করোনার ডাটা থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে ২৪ জুলাই এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেছে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘এল পাইস’। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা আক্রমণের দ্বিতীয় ধাপের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

নতুন করে ১০ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা
গত মে মাসের শেষের দিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দৈনিক ৫০০ এর নিচে ছিল, জুন মাসে ছিল ২৫০ এর নিচে। কিন্তু জুলাই মাসের শেষে এসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দৈনিক ১ হাজারের উপর দাঁড়িয়েছে। দেশটির কার্লোস থার্ড হেল্থ ইনস্টিটিউট এর জরিপ অনুসারে করোনাভাইরাসটি আবারো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে স্পেনে। জরিপ অনুসারে ভাইরাসটি ১জন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে গড়ে ১দশমিক ৩জন ব্যক্তিকে সংক্রমণ করছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। দেশটির ১৭টি অঞ্চলে করোনা সংক্রমন বাড়লেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ভাইরাসটি দেশটির ১০টি অঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং কাস্তিয়া ও লিয়ন আঞ্চলিক সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য স্থানীয় পত্রিকা ‘এল পাইস’কে জানান, মানুষজনের মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া, গ্রীষ্মকালীন কাজ বেড়ে যাওয়া এবং সামাজিক ও পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, যা পরিস্থিতির বিবেচনায় আশঙ্কাজনক।

তরুণরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি
স্পেনে করোনা মহামারির চরম পর্যায় অর্থাৎ এপ্রিলে প্রবীনরাই বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন, যাদের গড় বয়স ছিল ৬০ বছর। কিন্তু জুলাই মাসে দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের গড় বয়স ৪৮। একারণে ভাইরাসটি সংক্রমিত হলেও খুব ক্ষতি করতে পারছে না বলে ‘এল পাইস’ এর সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। তাই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি।

 

নতুন করে লকডাউনের পরিকল্পনা নেই সরকারের
২৩ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সতর্কতা বিভাগের সমন্বয়ক মারিয়া খসে সিয়েররা সংবাদ সম্মেলনে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব বিবেচনা করে বলেছেন, এটি করোনা আক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ হতে পারে। অন্যদিকে নতুন করে দেশটিতে লকডাউন বা জরুরি রাষ্ট্রীয় সতর্কতা জারি করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রবলেস। ২৪ জুলাই, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘এন্টেনা থ্রেস’এ একটি সাক্ষাতকারে তিনি এমনটি জানান। এদিকে দেশটির আঞ্চলিক সরকার করোনা আক্রান্ত এলাকায় নানা বিধি নিষেধ পৃথকভাবে ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে বিধি নিষেধ।

স্পেন থেকে বৃটেন ও ফ্রান্সে প্রবেশকারীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন
স্পেনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে দেশটির কাতালোনিয়া, আরাগন, মুরসিয়া প্রদেশে নতুন করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বৃটিশ সরকার স্পেন থেকে বৃটেনে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২৫ এপ্রিল দিবগত রাত থেকে বৃটেনে প্রবেশ করা স্পেনের যাত্রীদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আইনটি মেনে না চললে আর্থিক জরিমানা এবং বারবার লঙ্গন করলে ফৌজদারি মামলাও করা হবে। এদিকে ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের স্পেনের কাতালোনিয়ায় ভ্রমণ না করার জন্য সতর্ক করেছে এবং নরওয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সূত্র বিবিসি ও এল পাইস।

করোনায় নতুন করে বাংলাদেশি আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে
স্পেনে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কাতালোনিয়া প্রদেশের বার্সেলোনায় ২০ জনের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বার্সেলোনায় ২৫ ও ২৬ জুলাই বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার ক্যাম্প স্থগিত করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এ ঘোষণা দেয়। কারণ হিসেবে দূতাবাস জানায়, কভিড-১৯ পরিস্থিতির দ্বিতীয় স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বার্সেলোনায় কনস্যুলার ক্যাম্প স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উন্নতির পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কনস্যুলার সার্ভিসের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ওয়াল্ডোমির্টাস ডট ইনফো এর তথ্যানুসারে (২৮ জুলাই, ২০২০) করোনা মহামারিতে আক্রান্তের দিকে দিয়ে বিশ্বের মধ্যে নবম এবং ইউরোপের মধ্যে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে স্পেন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ও মৃতের সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *