Sun. Apr 18th, 2021

ভাসছে বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘বে ওয়ান’

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বের ‘সি ট্যুরিজমের’ অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ক্রুজশীপ বা বিলাসবহুল জাহাজ। এসব প্রমোদতরী গভীর সমুদ্রে ভেসে থাকা সত্বেও এখানে থাকে আধুনিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং নীল জলরাশি ও আকাশের মিতালি উপভোগ করার সকল ব্যবস্থা। একই সঙ্গে কাটানো যায় অবকাশের সেরা সময়গুলোও।

তবে নানা জটিলতায় বারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বিলাসবহুল ক্রুজশীপে চড়ে ঘুরে বেড়ানো আমাদের জন্য এতদিন অধরাই ছিল। তবে এবার সেই সুযোগের দুয়ার উন্মোচন হয়েছে বিলাশবহুল ক্রুজশীপ ‘বে ওয়ান’ এর বদৌলতে। চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার ভ্রমণ পিপাসুরা বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘বে ওয়ান’ এ। আর এই অভূতপূর্ব সুযোগ করে দিয়েছে চট্টগগ্রামের বিখ্যাত ‘কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’। দেশের পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে জাপান থেকে বিলাসবহুল এই বিদেশী ক্রুজশীপ ‘বে ওয়ান’ কেনা হয়েছে।

বেওয়ান প্রথমে কক্সবাজার সেন্টমাটিন রুটে চলাচল শুরু করলেও যেটি সমস্যার কারনে এই রুটে প্রথম চলাচলকারী জাহাজ এমভি কর্ণফুলীই পূনরায় চলাচল শুরু করে। আর এমভি বেওয়ানকে চট্টগ্রাম সেন্টমার্টিনের মধ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। চট্টগ্রাম সেন্টমার্টিনের মধ্যে চলাচলকারি পর্যটকবাহী বিলাস বহুল কোন ক্রুজ জাহাজ দেশে এটাই প্রথম। গত ১৪ জানুয়ারী পতেঙ্গা থেকে মহেশখালী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র হয়ে সেন্টমার্টিনে প্রায় দুই হাজার যাত্রী নিয়ে যাতায়াত শুরু করে জাহাজটি।

প্রাথমিকভাবে গত ২১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতি ‘বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন এবং শনিবার সকাল ১১টায় সেন্টমার্টিন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করছিল এটি। পরে ভ্রমণ পিপাসুদের চাহিদার ভিত্তিতে এখন সপ্তাহে ২ দিন যাতায়াত করছে জাহাজটি। সপ্তাহের প্রত্যেক বৃহস্পতিবার চট্রগ্রামের পতেঙ্গা থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে পরের দিন সকাল ৭টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছায় এবং শুক্রবার সেন্টমার্টিন অবস্থান করে শনিবার সকাল ১১টায় পতেঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এসে পৌঁছায়।

এরপর সপ্তাহের সোমবার ও বুধবার জাহাজটি পতেঙ্গা ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে যাতায়াত করে। মাঝখানে মঙ্গলবার জাহাজটি সেন্টমার্টিন অবস্থান করে। অর্থাৎ সপ্তাহের শুক্র ও মঙ্গলবার জাহাজটি সেন্টমার্টিন অবস্থান করছে। জাহাজটি আইএমও রেজিস্টার্ড সমুদ্রগামী তারকামানসম্পন্ন জাহাজ বিধায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও আশপাশের দ্বীপাঞ্চলেও প্রমোদভ্রমণের চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ।

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য এই জাহাজে সর্বনিম্ন যাওয়া-আসার ভাড়া হবে তিন হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। যাতায়াতের জন্য একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এমভি বে-ওয়ানের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, ‘দুই হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম এই জাহাজটিতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ থেকে এক হাজার যাত্রী প্রত্যাশা করছি। আশা করছি পর্যায়ক্রমে যাত্রী বাড়বে। এখন সপ্তাহে তিন দিন চলাচল করলেও সপ্তাহে সাত দিনই চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।’

জানা যায়, ফিরতি ভাড়া ও রাত্রীযাপনসহ ভিভিআইপি প্যাকেজের আওতায় দুজনের কেবিনের ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজের আওতায় চার জনের স্পেশাল ক্লাশ বাংকারের ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা, রয়েল প্যাকেজের আওতায় দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া পড়বে ৪৫ হাজার টাকা, প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ৩০ হাজার টাকা এবং বাংকার বেড প্যাকেজের আওতায় একজনের বাংকার বেডের ভাড়া পড়বে ১০ হাজার টাকা।

ইকোনমি প্যাকেজের আওতায় ইকোনমি সিটের ভাড়া পড়বে তিন হাজার টাকা। এছাড়াও বিজনেস ক্লাশ সিটের ভাড়া চার হাজার টাকা। তবে, একমুখী ভাড়া ও রাত্রিযাপনসহ ভিভিআইপি কেবিনে দুজনের ভাড়া পড়বে ২৫ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজে স্পেশাল ফার্স্ট ক্লাশ বাংকার বেডের ভাড়া পড়বে ২৫ হাজার টাকা এবং রয়েল প্যাকেজে দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া পড়বে ২০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ১৫ হাজার টাকা এবং একজনের সিঙ্গেল বাংকার বেডের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার টাকা। এছাড়াও বিজনেস ক্লাশ সিটের ভাড়া দুই হাজার ৫০০ টাকা ও ইকোনমি সিটের ভাড়া দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রমোদতরীতে রয়েছে দুই হাজার প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট, বাংকার বেড কেবিন, টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন। আরও আছে একটি রেস্তোরাঁ, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝর্ণা। কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন আঙিকে সাজিয়েছেন, ফলে জাহাজে এখন দুই হাজারের বেশি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *