Sun. Apr 18th, 2021

সুনামগঞ্জে একদিনে ৬৫ মামলার রায়: জোড়া লাগলো ৫৪ সংসার

মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ ব্যুরো প্রধান :

দেশের ইতিহাসে একদিনে সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ৬৫ মামলার রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে ৫৪টি মামলায় আপোষের রায়ের মাধ্যমে স্বামীর ঘরে ফিরলেন স্ত্রীরা। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় এ রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে ৫৪ জন স্বামী এই রায়ের মাধ্যমে অব্যাহতি পেলেন একই সাথে স্বাভাবিক ভাবে সংসার করার সুযোগ পেলেন।

দীর্ঘ দিন বিচার প্রক্রিয়া শেষে যুগান্তকারি রায় দেন বিচারক। মামলার হয়রানি ও সংসার এবং দম্পতিদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রথমে তাদের স্বামীদের ভাল হওয়ার জন্য সুযোগ দেন আদালত। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস মিমাংসার মাধ্যমে এবং আদালতের নির্দেশে মিলিয়ে দেয়া হয়।  এতে করে দুই পক্ষই লাভবান হবেন এবং অনেক মামলাজট কমবে মনে করেন সুনামগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা।

আদালাত সূত্রে জানা যায়, আদালত মনে করেন যে এই সব মামলার কারণে পরিবার গুলো ধংস হয়ে যাবে। তাদের একটি পরিবার ছিল সন্তানাদিও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ নানান কারণে পারিবারিক সহিংসতা শুরু হয়। যার ফলে বিচার প্রার্থী হয়ে তাদের স্ত্রীরা আদালতের দারস্ত হন। বর্তমানে তারা অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে। তাই আদালত স্বামীদের ভাল হওয়ার শর্তে স্ত্রী সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আদালতের নিজ উদ্যোগে রায় ঘোষণা হওয়ার পর দম্পতিদের ফুল এবং শিশুদের জন্য চকলেট প্রদান করে অর্ভথ্যনা দেয়া হয়। মূলত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং পরিবাবারের বন্ধন অটুট রাখতে এই পদক্ষেপ নেন আদালত। এছাড়া ১১টি মামলায় আপষ নিষ্পত্তি না হওয়ান ১১জন স্বামীকে দেড় বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১০জন  পলাতক রয়েছেন। দন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন নূরুল ইসলাম, মো,শামীম, নজরুল ইসলাম, শাহেদ চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম, ইমরান আহমদ, আল-আমিন, মো.সোহেল মিয়া, আল-আমিন, মইন উদ্দিন, রিপন মিয়া।

মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মইনপুর গ্রামের রোখশানা বেগম বলেন, আমাদের ২০১৯ সালে পারিবারিক ঝামেলা সৃষ্টি হয় । পরে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করি। আজ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালত রায় দেন। আমাদের চার সন্তান রয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করেছি মামলার জন্য সব সময় আদালতে এসে হাজিরা দিতে হত। এখন মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে আমি স্বামীর সাথে ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তি বসবাস করতে পারব। এ রায়ে আমি খুশি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় বলেন, এটি একটি যুগান্তকারি রায়। এর আগেও ৪৭ টি মামলার একই ভাবে দেন আদালত। এই রকম রায়ে আদালতে মামলা জট কমবে এবং মানুষ আদালতে ঘন ঘন হাজিরা দেয়া থেকে রক্ষা পাবে। এই রকম ভাবে দ্রুত মামলার রায় হলে বিচার প্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য ভাল দিক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.জাকির হোসেন বলেন, আগেও এই রকম রায় দেয়া হয়েছে। পরিবার গুলোকে বাঁচাতে এই ধরণের রায় দেয়া হয়েছে। পরিবারে ঝামেলা থাকবে অভাব থাকবে সব কিছু মানিয়ে চলতে হবে। যদি আবার কোনও ঝামেলা হলে আপনারা লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দেবেনে সেখানে আপনারা মামলা ছাড়াই বিচারকের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারবেন। যদি কোনও জটিল ঝামেলা হয় তাহলে আপনারা আবার আদালতের কাছে আসবেন আদালতের দরজা আপনাদের জন্য সব সময় খোলা থাকবে।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *