৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

রমজানে শ্রমিকদের প্রতি সহনশীল হোন

newsup
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২১
রমজানে শ্রমিকদের প্রতি সহনশীল হোন

নিউজ ডেস্কঃ  রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের বার্তা নিয়ে পবিত্র মাহে রমযান আমাদের মধ্যে হাজির হয়েছে। রমযানের মূল শিক্ষা হচ্ছে তাকওয়াপূর্ণ জীবনগঠন। আর তাকওয়ার প্রথম দাবিই হচ্ছে অন্যের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করা। সারাদিন উপবাস থাকার মাধ্যমে সমাজের শ্রমজীবী খেটেখাওয়া গরিব সম্বলহারা মানুষের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করা রমযানের অন্যতম শিক্ষা।

একজন শ্রমজীবী মানুষ যাতে মাহে রমযানের রোজা যথাযথভাবে পালন করতে পারে, সে জন্য ধনি-সামর্থবান রোজাদারের উচিৎ দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া। মালিকেরা যেন শ্রমিকদের উপর এমন কঠিন কাজ চাপিয়ে না দেন, যাতে একজন শ্রমিকের রোজা পালন করতে কষ্ট হয়। শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও কর্মঘন্টা কমিয়ে দেন, যাতে শ্রমিকদের রোজা পালন করতে কষ্ট না হয়। রাসুল (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম রমযানে শ্রমিকের কাজকে কমিয়ে দিতেন। অথচ আমরা রমযানে শ্রমিকের কাজতো কমাই না বরং বাড়িয়ে দেই, যা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। রমযান মাসেও দেখা যায় কিছু মালিক, শ্রমিককে গালিগালাজ, বকাঝকা, কটুকথা, মারধর করে থাকে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আসুন জেনে নেই কুরআন-হাদীসে একজন শ্রমিককে কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সৃষ্টির আদিকাল হতে মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছে। সামাজিকভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষের কাজের যোগ্যতা সমান নয়, একেকজন একেক বিষয়ে পারদর্শী। ফলে মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। ইসলাম অবৈধ পন্থায় কোন উপার্জনকে সম্মান করে না। তাই জীবিকা অর্জনে যে কোন বৈধ পেশাকেই ইসলাম সমর্থন করে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কারো জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য বা খাদ্য আর নেই। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতের কামাই খেতেন।’ (বুখারী, মিশকাত: ২৭৫৯)

ইসলামি শ্রমনীতিতে মালিক-শ্রমিকের আলাদা কোন ব্যবধান বা বৈষ্যম্য নেই। ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হচ্ছে আপন ভাইয়ের মতো। ভাই যেমন তার ভাইয়ের অধিকারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকেন, তদ্রুপভাবে একজন মালিক শ্রমিককে শুধু শ্রমিক হিসেবেই নয়, বরং আপন ভাইয়ের মতো তার অধিকারের ক্ষেত্রে সচেষ্ট থাকতে হবে। হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তারা (মজুর, শ্রমিক ও অধীন বেতনভোগী কর্মচারীরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের দায়িত্ব তোমাদের উপর অর্পন করেছেন। অতএব, যার কোনো ভাইকে তার অধীন করে দেওয়া হয়েছে, সে যেন তাকে তা-ই আহার করতে দেয়, যা সে নিজে আহার করে। যেন সেই পরিধেয় পরিধান করতে দেয়, যা সে নিজে পরিধান করে থাকে। আর তাকে যেন এমন কাজ করতে বাধ্য না করে, যা করলে সে পর্যদস্ত হবে। আর যদি এমন কাজ করতে তাকে বাধ্য করে, তাহলে যেন সে তাকে সহযোগিতা করে।’ (বুখারি শরীফ)।

শ্রমিকের শ্রমের বিনিময়ে মালিকের সফলতা আসে, সেজন্য ইসলামে শ্রমিককে ভাইয়ের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। একজন আদর্শ মালিকের দায়িত্ব হলো শ্রমিকের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং তার পারিশ্রমিক যথাসময়ে প্রদান করা। আজকাল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলন করতে দেখা যায়। মাসের পর মাস শ্রমিকের বেতন বকেয়া থাকে। অনেক মালিকপক্ষ শ্রমিককে চাকর কিংবা দাস-দাসীর মতো মনে করে, যা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। অথচ শ্রমিকরা তাদের পরিবারের দুবেলা খাবারের প্রয়োজন কিংবা সন্তানাদিদের একটু সুশিক্ষার প্রয়োজন মিটানোর জন্য হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে থাকে। কিন্তু যখন তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পায় না, তখন তাদেরকে নানা দুর্দশায় দিনাতিপাত করতে হয়।

প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো’। চিন্তা করুন, রহমতের নবী শ্রমিকদের কতো আপন বন্ধু ছিলেন। অথচ আজ আমরা মুসলিম দাবীদার হয়েও শ্রমিককে কিভাবে তার পারিশ্রমিক কম দেওয়া যায় কিংবা ঠকানো যায় সেই চিন্তা করি। অথচ একজন শ্রমিক হচ্ছেন মালিকের রক্ষক। শ্রমিকরা কষ্ট করে যদি শ্রম না দিতো তাহলে আপনার ব্যবসা-বাণিজ্য কখনো সফলতার মুখ দেখতো না। একজন শ্রমিকের উপর জুলুম-নির্যাতন করা হলে আল্লাহর পক্ষ হতে গজব আসে ঐ মালিকের উপর। শ্রমিকের প্রতি মালিককে পরম সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রিয় নবী (সা.)। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রমিককে দিনে সত্তরবার হলেও ক্ষমা করো’। রাসুল পাক (সা.) এর জীবনভর খেদমত করেছেন হযরত আনাস (রা.)। তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘ খাদেম জীবনে রাসুল (সা.) কখনো আমাকে ধমক দিয়ে কথা বলেননি।’
মাহে রমযানে শ্রমিকের প্রতি মালিকের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়, যা তার জন্য শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কারণ হয়। মনে রাখতে হবে সেও আপনার মতো একজন রোজাদার। শ্রমিকের মজুরি ও মর্যাদা সম্পর্কে হুজুর পাক (সা.) বলেছেন, আমি রোজ কেয়ামতে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হব। প্রথম হলো, যে আমার নামে প্রতিশ্রুতি করেছে অথচ তা রক্ষা করেনি। দ্বিতীয় হলো, যে ব্যক্তি স্বাধীন লোককে বিক্রয় করে তার মূল্য ভোগ করেছে। আর তৃতীয় হলো যে ব্যক্তি স্বাধীন মজুরের দ্বারা সম্পূর্ণ কাজ করিয়ে তার মজুরি প্রদান করেনি। (আল হাদীস)

শ্রমিকরা তো আমাদেরই ভাই। রমযান মাসে তাদের প্রতি আমরা যতো বেশি সহনশীল ও মানবিক হবো আল্লাহতায়ালাও আমাদের প্রতি তত বেশি রহমশীল হবেন এবং তার রহমত দিয়ে আমাদেরকে ধন্য করবেন।
আসুন! মাহে রমযানে শ্রমিকের কাজকে কমিয়ে দেই এবং তাদের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দেই যাতে একজন শ্রমজীবী মানুষ সাচ্ছন্দে সেহরি ও ইফতারি খেতে পারে। রমযানের রোজা শেষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে মাহে রমযানে শ্রমিকদের প্রতি সহনশীল ও মানবিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
April 2021
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast