নিউজ ডেস্কঃ  করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ‘কঠোর লকডাউন’ এর মেয়াদ বৃদ্ধিও ফলে ব্যাংকে সীমিত লেনদেনের সমসীমা বাড়ল। আগামী ৫ মে পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন চলবে। আর ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্য খোলা রাখা যাবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। লকডাউন বৃদ্ধির সরকারি প্রজ্ঞাপনের পর গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে।

কঠোর লকডাউন ঘোষণার শুরুতে গত ১২ এপ্রিল ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। এরপর ১৩ এপ্রিল ব্যাংকগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলো ওই দিন কলমানি থেকে ৮ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা ধার করে। গত আগস্ট মাসের পর যা ছিল সর্বোচ্চ। গ্রাহক ও ব্যাংকারদের ব্যাপক বিড়ম্বানার পর ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবারের নির্দেশনায় ১৩ এপ্রিলের ওই  সার্কুলারের আলোকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিধিনিষেধের এসময়ে সব ব্যাংকের প্রধান শাখা বা স্থানীয় কার্যালয় খোলা রাখতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী সব শাখা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি দুই কিলোমিটারে (একাধিক যদি থাকে) অন্তত একটি শাখা খোলা থাকবে। উপজেলা পর্যায়ে কার্যরত শাখা রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার লেনদেন হবে। আর কর্মকর্তা কর্মচারিদের আনা নেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো নিজস্ব পরিবহন কিংবা বাড়তি ভাড়া দিতে বলা হয়।

লকডাউনের এসময়ে এটিএম বুথ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর খোলা থাকা শাখা থেকে গ্রাহকরা সব ধরনের জমা-উত্তোলন, সঞ্চয়পত্র, এনআরবি বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে নগদায়ন ও কুপনের অর্থ নিতে পারবেন। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় বিভিন্ন ভাতা, রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, অভ্যন্তরীণ ও আন্ত:শাখা লেনদেন করা যাবে। ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা, ট্রেজারি চালান ও ইউটিলিটি বিল নেওয়া যাবে।