গতকাল মঙ্গলবার এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেট পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে তার সারমর্ম তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখানে বাজেট বক্তৃতার সম্ভাব্য চারটি শিরোনাম ছিল। বৈঠকে ‘জীবন জীবিকার প্রাধান্য ও আগামীর বাংলাদেশ’কে বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জীবন বাঁচাতে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের টিকা কেনা, টিকাদান, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। সরকার আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে টিকা দিতে চায়। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে জীবিকা ঠিক রাখতে কৃষি ও শিল্পোৎপাদন বাড়ানো ও সেবা খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ থাকছে। অসহায়, দুস্থ মানুষকে আনা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায়।
পরিবহন শ্রমিকদের নগদ সহায়তা দেবে সরকার :করোনার বিস্তার রোধে চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া সড়ক ও নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিকদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেবে সরকার। এজন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, চলমান লকডাউনের শুরু থেকে দূরপাল্লার গণপরিবহনসহ লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব যানবাহনে কর্মরত ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজারদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সড়ক ও নৌ খাতের পরিবহন শ্রমিকদের নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত বছর এবং এ বছর ৩৫ লাখ কর্মহীন দরিদ্রকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ওই ৩৫ লাখের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকরাও রয়েছেন। তাদের বাদ দিয়ে বাকি পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে চাওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়ক পরিবহন খাতে মোট শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে যাত্রীবাহী পরিবহনে কর্মী সংখ্যা ২৮ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী বাসে কর্মী সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার। বাকিরা টেম্পো, অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং, রিকশা, ভ্যান, নছিমন-করিমন, রেন্ট-এ কার ও ট্যাক্সিক্যাবের শ্রমিক। নৌ খাতে যাত্রীবাহী পরিবহনের সংখ্যা এক লাখ ৭৪ হাজার। কর্মরত শ্রমিক রয়েছেন ৩ লাখ ৩ হাজার।

নন-এমপিও শিক্ষকদের নগদ সহায়তার প্রস্তাব :
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত নন এমন শিক্ষক ও কর্মচারীদের নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক কর্মচারীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ব্যানবেইজের তালিকাভুক্ত নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার, যাদের সহায়তা দিতে সরকারের ব্যয় হবে ৭৫ কোটি টাকা। কভিড মোকাবিলায় থোক বরাদ্দ থাকা ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ব্যয় করার প্রস্তাব রয়েছে। গত বছর লকডাউনের সময়ও এসব শিক্ষক-কর্মচারী একই হারে সহায়তা পেয়েছিলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এ সহায়তা করা হয়।