বুধবার ভোর থেকে টেকনাফের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। এতে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের ২৫টি ঘর-বাড়ি এবং ৭টি ট্রলার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা জানায়, বুধবার ভোর থেকে প্রচণ্ড দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাগরের জোয়ার শুরু হয়েছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত জোয়ার থাকবে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি ঢুকে দ্বীপের ৭টি অংশে ব্যাপক ভাঙন ধরেছে। এখন পর্যন্ত ৬টি ঘর-বাড়ি ও জেটিসহ ৭টি ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপের উত্তর-পূর্ব বীচ, গলাচিপা, কোনাপাড়া, নজরুল পাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, একই দিন নাফনদীর জোয়ারের পানির স্রোতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ায় ২০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে এসব পরিবার তাদের স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ঘুণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অন্যদিনের চেয়ে ৪-৫ ফুট সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বীপে পানি ঢুকে চারদিকে ভেঙ্গে গেছে। তবে কয়েকটি অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় এখন পর্যন্ত ৬টি ঘর-বাড়িসহ কিছু ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখন পানি নামতে শুরু করেছে।

দ্বীপের বীচ কর্মী মো.আমিন বলেন, জোয়ারের পানিতে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা ডুবে গেছে। তবে এখন পানি নামতে শুরু করেছে। এতে দ্বীপের চারদিকে ভাঙ্গন দেখা যাচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপে ২৫ টি ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। এসব পরিবার তাদের স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।  বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের চারদিকে ব্যাপক ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরহারা মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।