নিউজ ডেস্কঃ  আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ মোট বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় কমানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে এই তিন খাতে সরকার ৫৪ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় এক হাজার ৭৮ কোটি আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এক হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা কম।

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ বাবদ ৫৬ হাজার তিন কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী, যা সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি বাড়িয়ে ৫৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। আর আগামী অর্থবছরে এ বাবদ ৫৪ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

খাদ্য, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। কৃষি, রপ্তানি, পাটজাত পণ্যে ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিয়ে থাকে সরকার। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাজেট থেকে ঋণ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় গত কয়েক বছর বিপিসিকে ঋণ দিতে হচ্ছে না। পিডিবিও ঋণ নেয়নি। তবে অন্য কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে হচ্ছে, যেখানে বরাদ্দ এবার বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে খাদ্যে ভর্তুকি বাড়াচ্ছে সরকার। নতুন অর্থবছরে খাদ্যে ভর্তুকির জন্য ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ছয় হাজার ১৭৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটেও এ বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে। করোনার কারণে কাজ হারিয়ে অনেক মানুষের আয় কমেছে। অনেকে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন। খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম সমকালকে বলেন, ওএমএস কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

সারাদেশে ৭১৫টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে খাদ্য অধিদপ্তর। এসব বিক্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন একটি বিক্রয়কেন্দ্রে গড়ে এক টন চাল ও গম বিক্রি করা হয়। বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। আর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৯ হাজার কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এ খাতে ভর্তুকি ৯ হাজার কোটি টাকা ছিল। তবে অন্যান্য খাতে ভর্তুকি তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ও সংশোধিত বাজেটে অন্যান্য খাতে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি রয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তা কমিয়ে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে।

এদিকে, বাজেটে প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা কমিয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ২১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। মূল বাজেটে এ খাতে ১৯ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

মূলত রেমিট্যান্স ও পাটজাত পণ্যের প্রণোদনা বাবদ ব্যয় বেশি হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু আগামীতে রেমিট্যান্সের বর্তমান তেজি ধারা নাও থাকতে পারে। এ জন্য এ খাতে প্রণোদনাও কম লাগতে পারে। রেমিট্যান্সের প্রণোদনার জন্য চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা হলেও অতিরিক্ত রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

আর পাটজাত পণ্যের প্রণোদনা ৫০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে সংশোধিত বাজেটে ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে একই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া রপ্তানিতে প্রণোদনা চলতি বাজেটের মতো ছয় হাজার ৮২৫ কোটি এবং কৃষিতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। নগদ ঋণ বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আট হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ছয় হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।