নিউজ ডেস্কঃ  করোনার মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। এর মধ্যে দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে গত মে মাসে। একক মাস হিসাবে মে মাসে প্রবাসীরা ২১৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন।

এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান।

আর এ বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৭ কোটি ডলার। আর গত বছরের মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১৫০ কোটি ডলার।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত অর্থাৎ ১১ মাসে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ২৮৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬৪৬ কোটি ডলার বা ৩৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

রেকর্ড রেমিট্যান্সের ফলে মঙ্গলবার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে আবার ৪৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ায় এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স বাড়ছে। অবশ্য দেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর গত বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে রেমিট্যান্স কমেছিল। তবে জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ধারায় অব্যাহত রয়েছে- করোনা সঙ্কটের মধ্যে যা স্বস্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে বিদেশে শ্রমিক যাওয়া একেবারে কমে যাওয়া, বিদেশে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং কাজ হারিয়ে দেশে ফেরায় রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এ ধারা আগামীতে কতদিন বজায় থাকবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যদিও আগামী অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সে প্রণোদনার হার ৪ শতাংশ করার প্রস্তাবনা রয়েছে।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে করোনার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। করোনা শুরুর মাস গত বছরের মার্চ শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক শুন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তবে এর কয়েকদিন পর তা কমে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামে।