৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

জামাইষষ্ঠীর আনন্দ আয়োজন

newsup
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২১
জামাইষষ্ঠীর আনন্দ আয়োজন

প্রতিবছর নিয়ম করে চলে সম্পর্ককে নবায়িত করার প্রয়াস। সেখানে অনুসৃত হয় কিছু ধর্মীয় অনুশাসন। ওটুকু বাদ দিলে পুরোটাই তো জীবনের উদ্‌যাপন। সেখানে পোশাক একটা বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ গুরুত্ব পায় না রসনাসম্ভার। আর সেখানে মাছের মুড়ো কিংবা মাংসের পদ যতই থাকুক মধ্যমণি কিন্তু ফল। বাঙালির ফলমাসের মধুফলে আপ্যায়িত হবেন জামাই।

বাঙালি জীবনে ব্যতিক্রম বাদ দিলে জামাইদের কদর কিন্তু সব সময়ই আছে। বাঙালি মুসলমান জামাইষষ্ঠী হয়তো পালন করে না; কিন্তু এ সময় জামাইকে দাওয়াত করে যে খাওয়ানো হয় না, তা নয়। আবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফলও পাঠানো হয়।

তবে ফিনফিনে আর্দির গিলা করা ধুতি কিংবা হালের সিল্কের রঙিন ধুতির সঙ্গে আর্দি বা সিল্কের পাঞ্জাবি পরে আসনে বসেছেন জামাই, সামনে সাজানো নানা পদ, শাশুড়ি পরিবেশন করছেন, শ্যালিকারা জামাইবাবুর সঙ্গে মজা করছেন। এ দৃশ্য বাঙালির আবহমানকালের।

এবারও আসছে জামাইষষ্ঠী। জামাইদের জন্য শাশুড়িরা যেমন কিনবেন উপহার, তেমনি জামাইরাও কিনবেন। তবে এই উপহার দেওয়াটা মূলত জামাই আর শাশুড়ির মধ্যকার হলেও, সেখানে পুরোপুরি সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং অন্যদের জন্যও কেনা হয়। তা ছাড়া জামাইকে দিলে মেয়েটাকেই বাদ দেওয়া হয় কীভাবে? আবার অন্যভাবে বললে শ্বশুরকেও তো বাদ দেওয়া হয় না। এর সঙ্গে পরিবারের অন্যরাও থাকেন। আর শ্বাশুড়ি যে কেবল নিজেরই হতে হবে, এমন তো নয়। ফলে উপহার কেনাই হয়।
ফলে উভয় পক্ষই খোঁজেন মানসম্মত পোশাক।

জামাইষষ্ঠীর আচরিক দিক

জামাইষষ্ঠী একটি লোকায়ত প্রথা। ষষ্ঠীদেবীর পার্বণ থেকে এই প্রথার উদ্ভব। বৈদিক যুগ থেকেই জামাইষষ্ঠী পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে প্রথম প্রহরে ষষ্ঠীপূজার আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠীর প্রতিমা কিংবা আঁকা ছবিতে পূজা নিবেদন করা হয়। কেউ কেউ ঘট স্থাপন করেও এই পূজা করে থাকেন।

কথিত রয়েছে, একবার এক গৃহবধূ স্বামীর ঘরে নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিলেন বিড়ালের ওপর। ফলে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। তাঁর পাপের ফলেই এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। তখন সেই নারী বনে গিয়ে ষষ্ঠী দেবীর আরাধনা শুরু করেন৷ একসময় দেবী তুষ্ট হন এবং সেই নারী নিজের সন্তান ফিরে পান।

বাঙালি হিন্দুসমাজে এ উৎসবের সামাজিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষত যে পরিবারে সদ্য বিবাহিতা কন্যা রয়েছে, সেই পরিবারে এই পার্বণ ঘটা করে পালন করা হয়। পূজার সময় পরিবারের সবার জন্য নতুন কাপড়, ফলফলাদি, পান-সুপারি, ধান-দূর্বা ও তালের পাখা রাখা হয়। ভক্তরা উপোস থেকে মায়ের পূজা করেন।

জামাইষষ্ঠী কোনো কোনো পরিবারে আবার অমাবুচি হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।
তবে যেটাই হোক না কেন, শেষমেশ পরিণত হয় উৎসবে, উদ্‌যাপনে। হাসি, আড্ডা, গল্পগুজব, খাওয়া-দাওয়া আর উপহার আদান-প্রদানে দিনটা ভরপুর হয়ে ওঠে।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast