এর আগে রোববার পরীমণি জানান চারদিন আগে বোড ক্লাবে কি ঘটেছিলো তার সঙ্গে। ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পরীমণি জানান, অমি নামে একব্যক্তি তার বেশ ক’বছরের পরিচিত। তার বাসার ডিজাইনার জিমির বন্ধু অমি। ওইসূত্রে পরীর বাসায় মাঝে মাঝে আসেন অমি। একদিন এসে বলেন কি একটা প্রজেক্টে টাকা ইনভেস্ট করবেন। তাই আমার সঙ্গে বসতে চান। ওই প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতেই অমি উত্তরা ক্লাবে নিয়ে যান পরীকে। এসময় সঙ্গে তার মেকাপম্যান এবং ডিজাইনারও ছিলেন। সেখানে খাওয়া-দাওয়া  করানো হয় পরীমণিসহ সবাইকে। এরপর একে একে লোকজন চলে যায়। তখন পরীমণিকে ড্রিংকস করতে বাধ্য করা হয়। মেকআপম্যানকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে পরীমণিকেও নির্যাতনের চেষ্টা চালান ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন। পরীমণি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। জোর করে তার মুখে মদ ঢেলে দেওয়া হয়। হঠাৎ পরীমণি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তাকে লাথি মারেন নাসির উদ্দিন।

মামলার এজাহারেও বিষয়টি জানান পরী।  সেখানে তিনি লিখেছেন,  নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৫০), অমিসহ (৪১) অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে এ মর্মে এজাহার দায়ের করছি যে ৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় আমার বর্তমান ঠিকানার বাসা থেকে আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, অমি, বনিসহ দুটি গাড়িযোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই।

তিনি লিখেছেন, পথিমধ্যে অমি বলে,  পথিমধ্যে অমি বলে, বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। তখন অমি অনুরোধ করে, এখানে পরিবেশ সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো।

এজাহারে তিনি আরও লিখেছেন, মদ্যপান করতে না চাইলে ১ নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল ঢুকিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমি সামনের দাঁত ও ঠোঁটে আঘাত পাই। ১ নম্বর আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ১ নম্বর আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারে। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১ নম্বর আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে। এ সময় আমি ৯৯৯–এ কল করতে গেলে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। ২ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন ১ নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করে।

পরীমণি এজাহারে লিখেছেন,  আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব। প্রকাশ থাকে যে ২ নম্বর আসামি অমি পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে আমার বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায় এবং ২ নম্বর আসামি অমিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন আসামির সহায়তায় ১ নম্বর আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই।

তিনি আরও লিখেছেন,  আনুমানিক রাত তিনটার সময় আমি আমার গাড়িযোগে প্রায় অচেতন অবস্থায় আমার সঙ্গীদের সঙ্গে ফিরে আসি। আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। ওই বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করায় এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।