২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সিলেটে কারাগার স্থাপনের ২৩২ বছরে ৭ বন্দির ফাঁসি কার্যকর

newsup
প্রকাশিত জুন ১৯, ২০২১
সিলেটে কারাগার স্থাপনের ২৩২ বছরে ৭ বন্দির ফাঁসি কার্যকর

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে কারাগার স্থাপনের ২৩২ বছরে ৭ বন্দির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ব্রিটিশের কবল থেকে মাতৃভূমিকে উদ্ধারের আন্দোলনে অস্ত্রাগার লুটের ঘটনায় বিপ্লবী অসিত ভট্টাচার্যের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে সিলেট কারাগারে ফাঁসি কার্যকর শুরু হয়। ৭ জনের মধ্যে স্বামীকে হত্যার দায়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলার করিমুন্নেসা আর স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ফাঁসি হয় সিরাজ ও আলম উদ্দিনের। প্রতিবেশীকে হত্যার দায়ে সাবুল মিয়া ও মাকু রবি দাসের ফাঁসি কার্যকর হয়। কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস মোহাম্মদ কামাল হোসেন  জানিয়েছেন, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার অনেক পুরনো। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি স্থাপন করা হয়। এখানে এপর্যন্ত ৭ বন্দির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। কারো ফাঁসি হোক এটা কেউ চায় না। কিন্তু অপরাধ করলেতো তার সাজা ভোগ করতেই হবে। হত্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের রায় পালন করতেই ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে অপরাধ কমে আসবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সকলের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

কারা সূত্র জানায়, ১৭৮৯ সালে সিলেট শহরের ধোপাদিঘীরপাড়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ২৪ দশমিক ৬৭ একর জায়গায় সিলেট কারাগার স্থাপন করে। কারাগার স্থাপনের ১৪৫ বছর পর ১৯৩৪ সালের ২ জুলাই বিপ্লবী অসিত ভট্টাচার্য্য এর ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে এই কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয়।

এর মাত্র ৩ বছর পর ১৯৩৭ সালে বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লংলার জমিদার কন্যা করিমুন্নেসার ফাঁসি কার্যকর হয়। পরকীয়ায় মত্ত হয়ে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক করিমুন্নেসা তার স্বামীকে নিজ হাতে হত্যা করেন। ৮৪ বছর আগে কার্যকর হওয়া করিমুন্নেসার ফাঁসির গল্প এখনো লোকমুখে শোনা যায়। করিমুন্নেসার পরকীয়া, স্বামী হত্যা ও ফাঁসির ঘটনায় অনেক বই-পুস্তক, পুঁথি রচিত হয় বলে ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন।

১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে করিমুন্নেসার ফাঁসি কার্যকরের দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ২০১০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টা ১ মিনিটে স্বাধীন বাংলাদেশে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে একই সঙ্গে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রেঙ্গা দাউদপুর গ্রামের সাবুল মিয়া ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মিরাপাতন গ্রামের আলম উদ্দিন স্বপনের ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ।
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রেঙ্গাদাউদপুর গ্রামের সাবুল মিয়া তার প্রতিবেশী মুক্তাদির আলীকে ২০০০ সালের ১২ নভেম্বর কুড়াল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত বিশেষ আদালত ২০০৩ সালের ৪ অক্টোবর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। হত্যার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় রায়ে সাবুল মিয়াকে ফাঁসির দন্ড দেন।

একই বছরের ১ ডিসেম্বর যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মিরার পাতন গ্রামের আলম উদ্দিন স্বপন তার স্ত্রী খোদেজা বিবি কমলাকে গলা টিপে হত্যা করে। স্ত্রী হত্যার ঘটনা আদালতে প্রমাণ হয়। ২০০৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্ত্রী খোদেজাকে হত্যার দায়ে ঘাতক আলম উদ্দিন স্বপনকে ফাঁসির দন্ড প্রদান করেন।

২০১১ সালের ২ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে এক কবিরাজকে হত্যার দায়ে চা শ্রমিক রবি মুন্ডার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। হবিগঞ্জের নালুয়া চা বাগানের এক কবিরাজকে হত্যা করেন চা শ্রমিক রবি মুন্ডা। ২০০৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত কবিরাজকে হত্যার দায়ে রবি মুন্ডাকে ফাঁসির দন্ড দেন। ২০১৬ সালের ১৩ ৮ ২ এর পৃ. ১ ক. দেখুন

জুলাই রাত ১২ টা ১ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলানো হয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাঁওয়ের চা শ্রমিক মাকু রবি দাসকে। ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশী নাইনকা রবি দাসকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে মাকু রবি দাস। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০৩ সালের ৯ অক্টোবর মাকু রবি দাসকে ফাঁসির দন্ড প্রদান করেন। উপরোক্ত ৬ বন্দির ফাঁসি কার্যকর হয় ধোপাদিঘীরপাড়ের ২৩২ বছরের পুরাতন কারাগারে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে শহরতলীর বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের সরিয়ে নেয়া হয়।

নতুন এই কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয় গত বৃহস্পতিবার । ওইদিন রাত ১১ টায় স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী সিরাজুল ইসলাম সিরাজের ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসি কার্যকর হওয়া সিরাজ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজনগর কবরস্থান এলাকার মৃত আবুল হোসেনের পুত্র। ৩ কন্যা সন্তানের জননী সাহিদাকে ২০০৪ সালের ৭ মার্চ শাবল ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে পাষন্ড সিরাজ। ঘটনার পরপরই হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৫। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের তৎকালীন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সিরাজকে ফাঁসির দন্ড দেন। রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ হাইকোর্টে আপিল (আপিল নম্বর ১৫৮/২০০৭, ডেথ রেফারেন্স নম্বর ১৮/০৭) করেন। ২০১২ সালের ১ আগস্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে আপিলটি নিষ্পত্তি করেন হাইকোর্ট। পরে সিরাজ রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। গত ২৫ মে রাষ্ট্রপতি সিরাজের আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ তার দন্ড কার্যকরে পদক্ষেপ নেয়। সকল প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের উপস্থিতিতে আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে স্ত্রী হত্যাকারী সিরাজের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করেন।

৮৪ বছর আগে পরকীয়ায় মত্ত লংলার করিমুন্নেসা স্বামীকে হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন। করিমুন্নেসার ফাঁসির ৭ যুগ পর স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এবার ফাঁসিতে ঝুললেন হবিগঞ্জের সিরাজ।

তথ্য সূত্র: সিলেটের ডাক


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast