২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

বয়সের ভারে বারবার ভুল

newsup
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২১
বয়সের ভারে বারবার ভুল

নিউজ ডেস্কঃ বয়স বেড়েছে। চেহারায় তার ছাপ স্পষ্ট। চামড়া কুঁচকে গেছে। মাথার অবশিষ্ট চুলগুলোও ধুসর। জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট (৭৮)। যে বয়সে অবসরে যাওয়ার কথা, নাতি-পুতিদের সঙ্গে হেসে-খেলে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সে কাঁধে চেপেছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের নাম্বার ওয়ান পরাশক্তি দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব। কিন্তু বয়সের ভারে আর পেরে উঠছেন না। ভুল করছেন পদে পদে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে দায়িত্ব পালনের মতো মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা নিয়ে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই বাইডেনের স্মৃতিভ্রম নিয়ে বেশ আলোচনা-বিতর্ক ছিল। এ নিয়ে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক ভুল-সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। ভুল বলতে দৈনন্দিন জীবনে তিনি এমন সব কর্মকাণ্ড করছেন, যা হাস্যরসের সৃষ্টি করছে। মাঝে মাঝেই মন্ত্রী-এমপিদের নাম ভুল করে বসেন বাইডেন। কখনও বিমানের সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। কখনও আবার থুঁতনিতে ডিমের কুসুম নিয়েই লাইভ বৈঠক করেন।
নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ভুলের ধারাবাহিকতায় এবার অজান্তেই থুঁতনিতে ডিমের কুসুম নিয়ে লাইভ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাইডেন। হোয়াইট হাউজে শুক্রবার (৩০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠক টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারিত হচ্ছিল। জো বাইডেনের বক্তব্য শেষে বৈঠকে কথা বলছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এ সময় একজন এসে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে একটা চিরকুট দিয়ে যান। চিরকুটে লেখা ছিল-‘স্যার আপনার থুঁতনিতে কিছু লেগে আছে।’ সঙ্গে সঙ্গে বাইডেন তা মুছে ফেলেন। বাইডেনের কাছে যখন এই চিরকুট পাঠানো হয়, তখন ফটোসাংবাদিক অ্যান্ড্র– হার্নিক ঝটপট ওই চিরকুটের ছবি তোলেন। ওই ঘটনার ভিডিও আর ছবি-দুটোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি টুইটারে চার লাখের মতো দেখা হয়েছে। শেয়ার হয়েছে এক হাজারেরও বেশিবার। এর আগে ১৯ মার্চ ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যান্ড্র– বেস এয়ারপোর্টে এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়িতে তিন দফায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যান বাইডেন।

শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ কারও নাম-পদবিই ভালো করে বলতে পারেন না বাইডেন। এমনকি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নামও। দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত ডিসেম্বরেও স্বাস্থ্য ও গণপূর্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেভিয়ার বিসেরার নাম ঘোষণার সময় একই ধরনের ভুল হয় তার। শুধু ওই দিনই নয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন ভুল প্রায়ই করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউজের এক অনুষ্ঠানে কোনো এক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেন্টাগন প্রধান লয়েড অস্টিনের নাম ভুলে যান তিনি। পরে আমতা আমতা করে অস্টিনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একই কাণ্ড ঘটান গত জুন মাসের ইউরোপ সফরেও। ব্রিটেনের কর্নওয়ালে জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে একে একে নেতাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এরই এক পর্যায়ে বরিসকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলে ওঠেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের নাম মিস হয়ে গেছে। কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে-কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার নাম বলেছেন বরিস। কিন্তু তা খেয়াল করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ নিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন নেতারা। কোনো প্রকারে পরিস্থিতি ‘হালকা’ করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast