২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে কেউ হটাতে পারবে না

newsup
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২১
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে কেউ হটাতে পারবে না

একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হবে : মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি

স্টাফ রিপোর্টার: কারো দয়া কিংবা গোলটেবিল বৈঠকে দেশ স্বাধীন হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবেলা করতে গিয়ে ১৯৪৯-১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ১৪ বছর জেল খেটেছেন। কিন্তু, তিনি বাঙালিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ভীতু ছিলেন না বিধায় ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়া থেকে উঠে আসা শেখ মুজিব-ই মানুষের স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ও সকল শহীদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে। তা দ্রুত কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৯ বার হামলা চালানো হলেও আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে যান।
অভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আপনারা অতীতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও জ্বালাও-পুড়াও করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি।  এখন লন্ডন থেকে অভ্যুত্থানের ফরমান পেলেও তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। কারণ আওয়ামী লীগের সাথে জনগণ আছে। এজন্য অভ্যুত্থানের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে কেউ হটাতে পারবে না। তিনি বলেন, ’৭১ সালে দেশ স্বাধীনের প্রতিশোধ নিতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সাথে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত। তারা মাস্টারমাইন্ড ও খুনিদের পৃষ্ঠপোষক।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। এজন্য যুদ্ধে তার কোন গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নেই। বরং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান খুনিদের বিচার না করে বিদেশে দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। তিনি এ হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন বলেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। দালাল আইন বাতিল করে সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দেন জিয়াউর রহমান। তিনি ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে দিতে চেয়েছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লজ্জা থাকা উচিত মন্তব্য করে এমপি হানিফ বলেন, দুর্নীতি মামলায় আপনার নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে আর তারেক রহমান নির্বাসনে আছেন। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। এখন বিএনপি পুতুল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের সকল স্বপ্ন নস্যাৎ ও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
এমপি হানিফ বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। এদেশে ১৫ আগস্ট কিংবা ২১ আগস্টের আর জন্ম হবে না। বিএনপি-জামায়াতের সে সক্ষমতা আর নেই। খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় রচনা হবে। তিনি বলেন, জামায়াতকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আর খালেদা জিয়া তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়ে গাড়িতে পতাকা উড়ানোর সুযোগ দেন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা এখনো বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারছে না। কাদের মোল্লাসহ জামায়াত নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলে পাকিস্তানের সংসদে নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়। তিনি বলেন, জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করায় বোঝা যায় তিনিও ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এজন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানান।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, ফয়জুর আনোয়ার আলাওর, নুরুল ইসলাম পুতুল, এডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, মোঃ সানাওয়র ও জগদীশ চন্দ্র দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটি.এম হাসান জেবুল, আজাদুর রহমান আজাদ ও বিধান কুমার সাহা, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট বেলাল উদ্দিন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মখলিছুর রহমান কামরান, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন লোকমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জুবের খান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ পুরকায়স্থ, শ্রম সম্পাদক আজিজুল হক মঞ্জু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, ডাঃ আরমান আহমদ শিপলু, সহ-প্রচার সম্পাদক সোয়েব আহমদ, কোষাধ্যক্ষ লায়েক আহমেদ চৌধুরী।
এছাড়া, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আব্দুল মালিক সুজন, এনাম উদ্দিন ও কানাই দত্ত, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল আহাদ চৌধুরী মিরন, এডভোকেট কিশোর কুমার কর, মোঃ আব্দুল আজিম জুনেল, নুরুন নেছা হেনা, মুক্তার খান, এডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদ সারোয়ার সবুজ, রাহাত তরফদার, এমরুল হাসান, সুদীপ দে, সাব্বির খান, সৈয়দ কামাল, সাইফুল আলম স্বপন, তাহমিন আহমেদ, রোকসানা পারভীন, ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, তৌফিক বক্স লিপন, জামাল আহমদ চৌধুরী, খলিল আহমদ, আবুল মহসিন চৌধুরী মাসুদ, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সুহেদ, শিপা বেগম শুপা, এডভোকেট তারাননুম চৌধুরী, জুমাদিন আহমেদ, রকিবুল ইসলাম ঝলক, মাহফুজ চৌধুরী জয়, ইলিয়াছ আহমেদ জুয়েল।
আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি এম. শাহরিয়ার কবির সেলিম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, মহানগর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রকিব বাবলু, মহানগর তাঁতী লীগের সভাপতি নোমান আহমদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জুনেদ আহমদ শওকত, হায়দার মোঃ ফারুক, মুহিবুর রহমান সাবু, হাজী মোঃ ছিদ্দেক আলী, সালাউদ্দিন বক্স সালাই, মাহবুবুর রহমান মবু, এডভোকেট সরওয়ার চৌধুরী আবদাল, দেলোওয়ার হোসেন রাজা, তাজ উদ্দিন লিটন, জাহিদুল হোসেন মাসুদ, জায়েদ আহমেদ খাঁন সায়েক, নজরুল ইসলাম নজু, এডভোকেট মোস্তফা দিলওয়ার আজহার, শেখ সুরুজ আলম, মোঃ বদরুল ইসলাম বদরু, মানিক মিয়া, চন্দন রায়, এডভোকেট বিজয় কুমার দেব বুলু, ফজল রাব্বি মাসুম, শেখ সোহেল আহমদ কবির, সেলিম আহমদ সেলিম, এম.এন ইসলাম ও মোঃ ছয়েফ খান প্রমুখ।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজমুল ইসলাম এহিয়া, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast