৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

আগামী বইমেলা হবে অনলাইনেও

newsup
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২১
আগামী বইমেলা হবে অনলাইনেও

নিউজ ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে অমর একুশে বইমেলা-২০২২ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে। ইতোমধ্যেই বইমেলা ঘিরে শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি। মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি এক মাস ধরেই এ নিয়ে কাজ করছে। এবার অনলাইনেও বইমেলা আয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। গত কয়েক বছরের মতো এবারও মেট্রোরেলের চলমান কাজ এবং কোভিড পরিস্থিতি বইমেলা আয়োজনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। প্রকাশকরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। দূর করতে হবে প্যাভিলিয়ন ও স্টলবিষয়ক কাঠামো নির্মাণের ত্রুটি। গত বছর প্রকাশকদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ ছিল এই কাঠামো বিন্যাস।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, আগামী বইমেলা নিয়ে আমরা এক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। মেলা অন্যান্যবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে। অমর একুশে বইমেলার চিরায়ত নিয়ম অনুযায়ী মেলা যেভাবে শুরু ও শেষ হয় এবারও সেভাবেই হবে। আমরা এবার মূলত দৃশ্যমান বইমেলার পাশাপাশি অনলাইনেও বইমেলার বিষয়টি ভাবছি যেখানে অনলাইনেও বই বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হবে। অনলাইনের বিষয়টিও যেন বিকশিত হয় সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, আমরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। আমরা আশা করছি এবারও তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাব। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর এবং শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর রাস্তায় এবারও আমরা সম্প্রসারিত জায়গা পাব। আমরা এখন প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত। বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের দুজন প্রতিনিধি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদের নিয়ে ইতোমধ্যে আগামী বইমেলা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবার এই কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শিগগিরই এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, আমরা প্রকাশকরা চাই, অমর একুশে বইমেলার যে মূল থিম ও চরিত্র তার কেনো পরিবর্তন আনা যাবে না। একুশের চেতনা, সৃজনশীল বই সামনে রাখা ও প্রচার করা, অন্য বই না রাখা, শুধু দেশীয় প্রকাশকদের দ্বারা প্রকাশিত দেশি বই, বাংলা ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি এগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া। এই নীতিগুলো মানতে শতভাগ মনিটরিং করতে হবে। তিনি বলেন, গতবারের মতো মার্চ বা এপ্রিলে নয়, আমরা চাই মেলা চিরায়ত নিয়ম অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকেই।

ফরিদ আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরে প্রকাশকদের মধ্যে মেলার কাঠামো বিন্যাস নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে সেটি ছিল সবচেয়ে বেশি। এখানে বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। গতবার অভিযোগ ছিল, বড় প্রকাশনা ও প্যাভিলিয়নগুলো এক জায়গায় মাঝখানে দেয়া হয়েছে। আর স্টলগুলোকে একসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দিকে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ভাবা হয়েছিল, আরেকটি প্রবেশপথ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দিকে দেয়ার ফলে স্টলগুলো পাঠক ভাবে। কিন্তু আদতে মানুষের স্রোত ছিল টিএসসির দিক থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখান পর্যন্ত। তিনি বলেন, পাঠকদের সুবিধার জন্য প্রবেশ আরও সহজ করা, পাঠকরা যেন সহজেই বইয়ের প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো খুঁজে পায় সেজন্য সহজ পদ্ধতি বের করা-এগুলো মেলা শুরু হওয়ার পরপরও করা যায়। কিন্তু কাঠামো বিন্যাসের বিষয়টি আরও তিন মাস আগে ভাবতে হবে। কারণ, সেখানে কাজ একবার হয়ে গেলে পরিবর্তন করা যায় না।

এদিকে শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও টিএসটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ তৃতীয় পর্যায়ের কাজের অংশ হিসাবে নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে মেট্রোরেলের কাজও। ২০২২ সালেও এই কাজ চলমান থাকবে। তবে তার মধ্যেই ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির প্রাণের বইমেলা।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast