৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

জলবায়ু সম্মেলন কেন্দ্রই কার্বন নির্গমনের ঘাঁটি

newsup
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২১
জলবায়ু সম্মেলন কেন্দ্রই কার্বন নির্গমনের ঘাঁটি

নিউজ ডেস্কঃ সরষের মধ্যেই ভূত। যে কার্বন নিঃসরণ বন্ধের লক্ষ্যে আয়োজন জলবায়ুবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৬; সেই সম্মেলনের কেন্দ্রই বছরের পর বছর ভয়াবহ মাত্রায় কার্বন নির্গমন করে আসছে। শুধু তাই নয়, সম্মেলন কেন্দ্রের অদূরেই মিলেছে মিথেন গ্যাসের ব্যাপক উপস্থিতিও। অরক্ষিত গ্যাস পাইপলাইন থেকে নির্গত হওয়া মিথেনে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে বায়ুমণ্ডল। এখানেই শেষ নয়, যাদের অর্থায়নে বিশাল এই সম্মেলন, সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ রয়েছে। প্রতি বছর লাখ লাখ টন কার্বন ছড়িয়ে ধ্বংস করছে প্রকৃতি। এই বিষয়গুলো কার্বন নিঃসরণ বন্ধের প্রতিশ্রুতিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। আজ রোববার (৩১ অক্টোবর) থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হচ্ছে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলন। এই সম্মেলনকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি কমাতে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণের সর্বশেষ সুযোগ বলেও মনে করা হচ্ছে। জলবায়ু আলোচনার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে গ্লাসগো শহরের স্কটিশ ইভেন্টস ক্যাম্পাসের বিখ্যাত দুই সম্মেলন কেন্দ্র এসইসি আর্মাডিল্লো ও এসইসি ওভো হাইড্রো সেন্টার। কিন্তু এই দুই ভেন্যুর বিরুদ্ধেই বেশ আগে

থেকেই ব্যাপক মাত্রায় কার্বন ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তা কানেই তোলেনি ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। ফলে গ্লাসগো শহরের সবচেয়ে বাজে ভেন্যুগুলোর কাতারের তকমাও পেয়েছে ভেন্যু দুটি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যান জানিয়েছে, ২০১২ সালের সরকারের এনার্জি এফিসিয়েন্সি রেটিংয়ে এসইসি আর্মাডিল্লো ‘এফ’ গ্রেড পেয়েছে অর্থাৎ পাশ ফেল করেছে। যেখানে সর্বনিম্ন গ্রেড হচ্ছে ‘জি’। কার্বন কমাতে ভেন্যুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও ইনসুলেশনের মতো নিম্ন বা জিরো কার্বন প্রযুক্তি বসানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও গত ৯ বছরেও তা মানেনি ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনের ভেন্যুর তালিকায় রাখা হয়েছে গ্লাসগো সাইন্স সেন্টারের নামও, যেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ছয় হাজার ৬৫৯ টন কার্বন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু কার্বনই নয়, কপ-২৬ সম্মেলন কেন্দ্রের কাছেই শহরের বহু স্থানে মিথেন গ্যাস লিকও শনাক্ত হয়েছে। শহরের আইব্রক্স ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী একটি গ্যাস পাইপলাইন থেকে এই গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি শনাক্ত করেছেন রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, ওই একটি মাত্র পাইপলাইন থেকেই প্রতি বছর প্রায় ৫০ টন মিথেন ছড়াচ্ছে।

জলবায়ু সম্মেলনের জন্য বিতর্কিত এসব ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে পরিবেশ সংগঠনগুলো। সম্প্রতি পরিবেশ আন্দোলন সংস্থা গ্রিসপিস এক বিবৃতিতে বলেছে, এটাই প্রথম কোনো জলবায়ু সম্মেলন যেখানে ‘সরষের মধ্যে ভূত’। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এসইসি ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। বলেছে, ভেন্যুগুলোতে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকেই আসে। সেই সঙ্গে জ্বালানি ও পানির ব্যবহার কমিয়ে এনেছে বলেও দাবি এসইসি কর্তৃপক্ষের।

প্যারিস সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পযুগের আগের তুলনায় দুই ডিগ্রির মধ্যে এমনকি সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখার বিষয়ে একমত হন। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি তত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জাতিসংঘ বলছে, এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ বর্তমানের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণে গ্লাসগো কপ-২৬ সম্মেলনই শেষ ভরসা বলছেন বিশ্লেষকরা।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast