৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন সিলেটবাসী

newsup
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২১
ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন সিলেটবাসী

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে ভূমি ব্যবস্থাপনায় চলছে সীমাহীন হয়রানি-দুর্নীতি। ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে মানুষের এমনিতেই ভোগান্তির শেষ নেই। এরই মধ্যে নতুন বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দারা। সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে স্থাপিত ‘প্রেস’ ঢাকায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভূমি অফিসেরই একটি চক্র এর সাথে সংশ্লিষ্ট মর্মে অভিযোগ উঠেছে। খোদ সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার জানিয়েছেন, প্রেসটি সিলেট থেকে স্থানান্তর হলে কাজে গতি কমে যাবে। সাধারণ সেবা গ্রহিতাদেরও বিড়ম্বনা বাড়বে । তিনি জানিয়েছেন, প্রেস স্থানান্তরের বিষয়টি মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কিছু জানানো হয়নি।

সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের তৎকালীন ৩৬টি উপজেলায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৭-৮৮ সালে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সিলেটে জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৫টির মতো উপজেলার চূড়ান্ত জরিপ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বাকি উপজেলা গুলোরও শেষের দিকে। ২০১২ সালে তৎকালীন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার ইউসুফ আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সিলেটে প্রেস স্থাপিত হয়। এরপর থেকে সিলেটের জরিপের কাজ দ্রুততার সাথে এগুতে থাকে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিলেটে প্রেস আসার আগে ঢাকা থেকে সবকিছু ছাপা হতো। এতে অনেক সময় লাগতো, ভূমি মালিকগণ পরচা পেতেন অনেক বিলম্বে। সিলেটে প্রেস হওয়ায় দ্রুত উপজেলারগুলোর কাজ সম্পন্ন করা গেছে। আগে রেকর্ডগুলো সনাতন পদ্ধতিতে প্রিন্ট হতো। এখন প্রেস সিলেটে হওয়ায় জনগণ দ্রুত প্রিন্ট পরচা হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এখন শুধু ঢাকা থেকে নক্সা প্রিন্ট হয়, বাকি সব কাজ সিলেট প্রেস থেকে হয়। ঢাকা থেকে ছাপা হতে সময় লেগেছে বেশি। তখন দেখা যেত, একটা মৌজার প্রিন্ট পরচা পেতে ২০/২২ বছর লেগে যেত। সিলেটের প্রেস থেকে প্রিন্ট হওয়া জরিপেও অগ্রগতি হয়েছে অনেকাংশে। এখন যে কোন ভূমি মালিক দ্রুততার সাথে তার স্বত্ব লিপি পেয়ে যাচ্ছেন। সিলেটে প্রেস হওয়ায় কাজেও যেমন গতি এসেছে; তেমনি সিলেটবাসীর অনেক উপকার হয়েছে। না হলে বছরের পর বছর ভূমি মালিকগণকে প্রিন্ট পরচার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হতো। এতে ভূমির জটিলতা বেড়ে যেত। এখানে প্রেস হওয়ায় দ্রুত সিলেট বিভাগের কাজ সমাপ্তির দিকে।

অন্যদিকে, সিলেটে ১৯৮৭-৮৮ সালে জরিপ শুরু হওয়ার পরও প্রায় ৩৪ বছর হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত জরিপ কাজ সমাপ্ত হয়নি। ৫০ বছর পর পর পুনরায় জরিপ শুরু করার নিয়ম থাকলেও আরেক জরিপ শুরু হওয়ার সময় হয়ে আসছে- তারপরও সিলেটের জরিপ কাজ শেষ হচ্ছে না। এর মাঝে যদি সিলেট থেকে প্রেস ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়; তাহলে সিলেট বিভাগের কাজ দ্রুত শেষ হওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ‘সিলেট থেকে প্রেস ঢাকা নিয়ে যাওয়া হবে। এটা করা হলে সিলেটবাসীর আবারও প্রিন্ট পরচা হাতে পেতে আগের মতো কয়েক বছর লেগে যাবে। ভূমি মালিকানার জটিলতা আরো বাড়বে। যারা এখন পর্যন্ত প্রিন্ট পরচা পাননি; তারা অপেক্ষা করছেন জমি বেচাকেনা করার জন্য। কেনা বেচায় সময় ব্যয় হবে, আবারও জনগণের ভোগান্তি চরমে উঠবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি বিভাগীয় শহর। প্রত্যেকটি মানুষের নাগরিক অধিকার সেবা পাওয়া। সিলেট থেকে প্রেস ঢাকায় স্থানান্তরের চেষ্টা একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এটাকে প্রতিহত করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-এমপিদের এলাকা সিলেট। বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নাগরিক সেবা যেখানে নিশ্চিত করার কথা, সেখানে বিড়ম্বনা সৃষ্টির পায়তাঁরা যারা করছে, তাদের ব্যাপারেও সজাগ থাকা এবং তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।’

সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার ওবায়দুর রহমান জানান, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিলেট প্রেস থেকে ৫ হাজার মৌজার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। সিলেটে প্রেস থাকার কারণে কাজে এই গতি আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, সিলেট বিভাগে ৫ হাজার ৪শ’ ৫৭টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬শ’ মৌজার জরিপ ও সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হয়েছে। বাকি মৌজাগুলোর কাজও শেষের দিকে। সিলেট থেকে প্রেস ঢাকায় স্থানান্তর বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান জানান, ঢাকায় একটি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, এখনো লিখিত কিছু জানানো হয়নি। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা চাইবে আমাদের তা করতে হবে, তবে প্রেস সিলেট থেকে স্থানান্তর হলে কাজে গতি কমবে, সাধারণ মানুষের সেবা পেতে কিছুটা তো ভোগান্তি পেতেই হবে।

এ ব্যাপারে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সিলেটের প্রেসটি ঢাকায় স্থানান্তরের চিন্তা রয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, লোকবল নেই, ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়ে প্রেসে কাজ করতে হয়। স্থানীয়ভাবে লোক নিয়োগ করে সিলেটে প্রেসে কাজ করানো যায় কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি টেকনিক্যাল, এর জন্য চাইলেও পারা যায় না। তবে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast