২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিথিলতার মধ্যেও বাড়ল খেলাপি ঋণ!

newsup
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২১
শিথিলতার মধ্যেও বাড়ল খেলাপি ঋণ!

নিউজ ডেস্কঃ
তিন মাসে ৬৩৫১ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে চলতি বছরেও ঋণ পরিশোধে শিথিলতা রয়েছে। এর মধ্যেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে অনেক ব্যাংকের। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছয় হাজার ৩৫১ কোটি টাকা বেড়ে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ঋণের যা ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে মূল ব্যাংক ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের ঋণ বিতরণ ও খেলাপির তথ্য আলাদাভাবে হিসাব করত। গত ডিসেম্বর থেকে একসঙ্গেই হিসাব করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর গত বছর কেউ ঋণ পরিশোধ না করলেও তাকে খেলাপি করতে পারেনি ব্যাংক। এ বছর নতুন করে আগের মতো ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যেসব মেয়াদি ঋণ চলতি বছরের মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার কথা, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে তা আগামী জুনে পরিশোধ করলেও চলবে। আর চলমান ঋণের ওপর ২০২০ সালে আরোপিত অনাদায়ী সুদ একবারে পরিশোধ না করে আগামী জুন পর্যন্ত ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। এ ছাড়া তলবি ঋণ চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আটটি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। তিন মাস আগে যেখানে ঋণ স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এর মানে গত তিন মাসে ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৮ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। গত তিন মাসে জনতা, সোনালীসহ অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমলেও অনেক ব্যাংকের বেড়েছে। বৃদ্ধির দিক দিয়ে সব চেয়ে এগিয়ে থাকা ১০ ব্যাংকে বেড়েছে ৪ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ৭০৭ কোটি টাকা বেড়েছে অগ্রণী ব্যাংকের।
জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ঋণ আদায় পরিস্থিতি খারাপ। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের মধ্যেও অনেকে ঋণ পরিশোধ করছে না। পরিশোধের ক্ষেত্রে শিথিলতা উঠে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি বলেন, মার্চে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো, বার্ষিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করতে গিয়ে কিছু ঋণ খেলাপি হয়ে যায়। দেখা যায়, ব্যাংকের পুনঃতফসিল করা কিছু ঋণ আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শনের কারণে খেলাপি দেখাতে হয়।
মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তিন মাস আগে ৪২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ছিল খেলাপি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা হয়েছে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের যা ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫৮ টাকা হয়েছে। আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২৪ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন সুবিধা ঢালাওভাবে দেওয়া হয়নি। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিশোধ না করলে খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকরণে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া ঋণ শ্রেণীকরণ বিবরণী প্রস্তুত করা হয় প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে। ডিসেম্বরের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার পর নানা কারণে কিছু খেলাপি ঋণ মার্চে এসে যোগ হয়। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মার্চে খেলাপি ঋণ বাড়ে।
সংশ্নিষ্টরা জানান, সাধারণভাবে আদায় বাড়লে খেলাপি ঋণ কমে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আদায় না করেই নানান ছাড় নিয়ে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর আলোকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে ছাড়ের আগে ২০১৯ সালে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এ সুবিধার পর ব্যাংকগুলোতে ৫২ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত হয়। যে কারণে ২০১৯ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ব্যাপক কমে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকায় নেমে আসে। এর মাত্র তিন মাস আগে ওই বছরের সেপ্টেম্বর শেষে যেখানে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast