২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

জঙ্গি টার্গেটে কূটনৈতিক জোন : গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে

newsup
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
জঙ্গি টার্গেটে কূটনৈতিক জোন : গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই। জঙ্গিরা নানাভাবে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিও দেশ-বিদেশে প্রশংসিত। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় এক জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাকে আটকের পর পুলিশ কূটনৈতিক এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দূতাবাস এবং কূটনীতিকদের বাসায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। আটকের পর বিদেশফেরত ওই জঙ্গিকে হামলার পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে জবাবে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। কৌশলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একাধিক ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে। জঙ্গিরা নানাভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা তার উদাহরণ। সময়-সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নিষিদ্ধ ও নতুন নামে পরিচিত একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সবসময় চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে হলি আর্টিসান হামলা একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা বলে মনে করি। এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পেলাম, জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি কেবল দরিদ্র পরিবারের অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত মাদ্রাসাপড়ুয়াদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। এই ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের অত্যন্ত উঁচু মহলে, উচ্চবিত্ত পরিবারের ইংরেজি শিক্ষিত ছাত্র ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাত্রীদের মাঝেও। তাদের মধ্যে জঙ্গিবাদের ইন্ধনদাতা হিসেবে বেশকিছু শিক্ষক, ব্যবসায়ী এমনকি সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের ভূমিকার কথাও আমরা জানতে পেরেছি। এমতাবস্থায় বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। বলা যায়, দেশে জঙ্গি তৎপরতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম তথ্য নিয়ে বেশকিছু জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। এই তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গি ধরপাকড়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে নতুন করে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার ধারাও। পাশাপাশি জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় নব্য জেএমবি বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গোপন তৎপরতা কীভাবে ও কিসের জোরে চলতে পারছে, তা গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা দরকার। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তাদের জনবল সংকটও কখনো স্থায়ী হয়নি। কারাগারে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার পেছনেও নজরদারি করতে হবে। কারণ কারা অভ্যন্তরে জঙ্গিরা তাদের মতাদর্শ প্রচারের বিরাট সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। এমনকি কারাগারে থেকেও তারা বিভিন্ন পর্যায়ে পয়সা ও প্রভাব খাটিয়ে বাইরে যোগাযোগ করছে এমন খবরও সংবাদমাধ্যমে আসছে বারবার। সুতরাং সাধারণ কয়েদিদের কাছ থেকে তাদের আলাদা করার ব্যবস্থা করতেই হবে। আমরা মনে করি, জেলের ভেতরে ও বাইরে জঙ্গি পুনর্বাসনে সমন্বিত ও সুচিন্তিত কার্যক্রম নিতে হবে। জেলখানা থেকে ছাড়া পাওয়া জঙ্গিরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য পারিবারিক ও সামাজিক শুশ্রƒষার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জরুরি।

সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast