২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সুনামগঞ্জে ৫০ মামলায় ৭০ শিশুকে বাবা ও মায়ের জিম্মায় দিলেন আদালত

Syed
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২১
সুনামগঞ্জে ৫০ মামলায় ৭০ শিশুকে বাবা ও মায়ের জিম্মায় দিলেন আদালত

  মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ ব্যুরো প্রধান :


সুনামগঞ্জে আবার ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছে আদালত। ৫০টি মামলায় ৭০জন শিশুকে সংশোধনের জন্য কারাগারের পরিবর্তে ফুল দিয়ে বরণ করে বাবা-মায়ের জিম্মায় এক বছরের জন্য প্রবেশনে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় এ ব্যতিক্রমী রায় দেন তিনি।

এসময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নান্টু রায়, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হাসান মাহবুব সাদী ও জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমান।

আদালত সুত্রে জানা যায়, গত ৪ থেকে ৫ বছরে এ ৫০টি মামলা দায়ের করা হয় জেলা বিভিন্ন থানা ও আদালতে। এ মামলাগুলোতে ৭০ জন শিশু নিয়মিতভাবে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এ বিষয়িিট বিবেচনা করে আদালত শিশুদেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৬টি শর্তে ওই ৭০ জন শিশুকে বাবা ও মায়ের জিম্মায় এক বছরের জন্য প্রবিশেনে দেন। আজ থেকে প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা ওই শিশুদের আচার আচরণ ও ৬টি শর্ত প্রতিপালিত হচ্ছে কি না ? এ বিষয়টি আলাদা আলাদাভাবে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

শর্তগুলো হচ্ছে, প্রতিদিন ২টি ভাল কাজ করা এবং তা আদালতের দেয়া ডায়রিতে লিখে রাখা ও বছর শেষে ওই ডায়রি আদালতে জমা দেয়া। বাবা- মাসহ গুরুজনদের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা এবং বাবা ও মায়ের সেবা যতœ করা ও কাজে কর্মে তাদের সহযোগিতা করা। নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং ধর্মকর্ম পালন করা। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা। মাদক থেকে দূরে থাকা। ভবিষ্যতে কোন অপরাধের সাথে নিজেকে না জড়ানো।

আদালত বলেন, শিশুদের জন্য একটা আলাদা বিচার ব্যবস্থা যা প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার আইনের বাইরে গিয়ে এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এ রায় দেয়া হয়েছে। আদালত শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা নিজেদের সংশোধন করে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলবে। তোমরাই একদিন রাষ্ট্রের বড় বড় পদে কাজ করার জন্য এ সুযোগ দেয়া হয়েছে। তোমরা আদালতের নির্দেশনা মেনে তোমারা চলাফেলা করবে।

বাবা ও ময়ের জিম্মায় যাওয়া হবিগঞ্জের শিশু রফিউল আলম মাহি জানায়, ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার মনোয়া গ্রামের মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এসময় তার মামা ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ঝগড়া হলে মামার প্রতিপক্ষরা তাকে মামলায় আসামি করে। ফলে সে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হত। আদালতে এ যুগান্তকারি রায়ের ফলে সে বাবা ও মায়ের কাছে থাকতে পারবে। এখন আর তার আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

বাবা ও মায়ের জিম্মায় যাওয়া অপর শিশু আলী আহমদ জানায়, তার বাড়ি জেলার ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের পাটিবাগা গ্রামে। সাড়ে বছর আগে তার চাচা সঙ্গে প্রতিবেশীদেও ঝগড়া হয়। এ মামলায় চাচার সাথে তাকেও আসামিকরে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ আদালতের যুগান্তকারি রায়ের ফলে সে বাড়ি থেকে সাজা ভোগ করতে পারবে। আদালতে তার মা জ্যোস্না বেগমও ছিলেন। তিনি আদালতের রায়ে খুবই খুশি হয়েছেন।


সংবাদটি পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

https://www.booked.net

+22
°
C
+22°
+19°
London
Monday, 29

 

See 7-Day Forecast