কুলাউড়া সরকারি কলেজে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কুলাউড়া সরকারি কলেজ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরীত ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ।
সকাল ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন, কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল।
পরে কলেজের প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য শোক প্রস্তাব পাঠ করেন নির্মাল্য মিত্র সুমন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন কলেজের শিক্ষক মো. জমসেদ খান। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের অবসরজনিত মানপত্র পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক ফজলু।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিন্টুর পরিচালনায় বেলা ১২টা থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন- খন্দকার লুৎফুর রহমান, সৈয়দ মুহিবুর রহমান, শওকতুল ইসলাম শকু, হাবিবুর রহমান টুটু, খন্দকার আব্দুস সোবহান, মুহিবুর রহমান বুলবুল, মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো, অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, জাকির হোসেন, বদরুজ্জামান সজল, সিপার উদ্দিন আহমেদ, মো. খালেদ পারভেজ বখশ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম, বাবুল উদ্দিন খান, রেদওয়ান খান, মইনুল ইসলাম শামীম, কমরেড আব্দুল লতিফ, ফরহাদ আহমদ, একেএম কদরুল হক মারুফ, কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, জুলহান রানী দেব, শেলুর রহমান, সারওয়ার আলম বেলাল, বদরুল হোসেন খান, নির্মাল্য মিত্র সুমন, মুহিবুর রহমান কোকিল, ভানু পুরকায়স্থ, জিএস রওশন, হেমন্ত চন্দ্র পাল, রেহান উদ্দিন আহমদ, শহীদুল ইসলাম তনয়, কাওসার আহমদ নিপার, সঞ্জয় দেবনাথ, নুরুল ইসলাম খান বাবলা, কামরুল হাসান, নুরুল ইসলাম ইমন, রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকন, জহিরুল ইসলাম এশু, একেএম জাবের, নাজমুল বারী সোহেল, সিরাজুল আলম জুবেল, কাওসার আহমদ বাপ্পু, বিসি বাবলু, মাহফুজ শাকিল, সাইফুর রহমান, সুলতান আহমদ টিপু, তানজিল হাসান খান, আব্দুল্লাহ সালেহ চৌধুরী আলিফ, মৌসুম সরকার, শামীম আহমদ, হাবিবুর রহমান টিপু, আফজাল হোসেন, শেখ বদরুল ইসলাম রানা প্রমুখ।
শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে পুনর্মিলনীতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে তৈরি করা ফটোমঞ্চে ব্যাচ ভিত্তিক গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস করতেও দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসে নবীণ ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন না দেখা সহপাঠিদের পেয়ে আনন্দ আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ও কুশলাদি করেন।
৫৬ বছর পর এমন ব্যতিক্রমী উৎসবে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। তারা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফিরে যান ফেলে আসা তারুণ্যে ভরা দিনগুলোতে। পুরোনো সব বন্ধু আর সহপাঠীকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরেন তারা। অনেকে আবার পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার অনেকেই দল বেঁধে গান গাইছিলেন। ঐতিহ্যের ধারক এ কলেজে এসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এভাবেই দিনটি কাটান।
বেলা ৩টায় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানকে অবসরজনিত মানপত্র ও স্মারক প্রদান করা হয়। তৃতীয় অধিবেশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। এছাড়া কনসার্টে গান পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল অ্যাশেজ (জুনায়েদ ইভান) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দল স্বরূপ।

