আদিবাসী জনগোষ্ঠী নাগরিক হলেও রাষ্ট্রীয় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত: ড. জহিরুল হক শাকিল

প্রকাশিত: 8:00 PM, August 9, 2026 | আপডেট: 8:09:PM, August 9, 2026

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক বৈষম্যের সবচেয়ে নির্মম শিকার আদিবাসীরা: মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভিসি

 

 

সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেছেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী দেশের নাগরিক হলেও রাষ্ট্রীয় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সামাজিক বৈষম্যের সবচেয়ে নির্মম প্রভাব পড়ছে এই জনগোষ্ঠীর ওপর।

 


আরও পড়ুন: ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে ১২ শতাধিক পান গাছ কর্তন কুলাউড়ায় আদিবাসীদের পানজুম জীবিকার নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন

 

রবিবার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

 

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেন, বর্তমানে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আবহাওয়া ও ঋতুর পরিবর্তন মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যও সংকটকে আরও গভীর করছে।

 

 

 

তিনি বলেন, এসব সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

 

 

 

 

ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভূমি অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের বাদ দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, কুলাউড়া উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টু, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ডেরিক প্রেন্টিস ডাডলি, কুলাউড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, ভয়েস অব রিভার মনুর প্রধান নির্বাহী এএসএম ছালেহ সোহেল, কারিতাস সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক বনিফাস খংলা এবং বাংলাদেশ অবলেটস জাস্টিস অ্যান্ড পিসের সমন্বয়কারী ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল।

 

 

 

 

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন