চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল জগন্নাথপুরের ফারহা ও পূর্বা
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে নতুন মূল্যায়নে জিপিএ-৫ (A+) পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তারা।
কৃতি এই দুই শিক্ষার্থী হলেন, ফারহা জান্নাত ও পূর্বা দে। পুনর্নিরীক্ষণের এই ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
পূর্বা দে জগন্নাথপুরের ছিক্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রূপক কান্তি দে ও ওয়ারিদ উল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাপ্পী রানী দে এর কনিষ্ঠ কন্যা। অপর দিকে ফারাহ জান্নাত জগন্নাথপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ওমর ফারুক ও গৃহিনী গুনসানা আরার মেয়ে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার মূল ফলাফলে এই দুই শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। তবে তাদের মেধা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর কম আসায় তারা ফলাফলের ওপর সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরবর্তীতে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে তারা শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করেন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)
বোর্ড চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, দুই শিক্ষার্থীরই ফলাফল আমূল পরিবর্তন হয়ে সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ এসেছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়ন্ত রায় ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্বের মূল ফলাফলে শিক্ষার্থী পূর্বা দেব জিপিএ-৪.৮৯ এবং ফারহা জান্নাত জিপিএ-৪.৯৪ পেয়েছিলেন। পূর্বের রেজাল্টে দুজনেরই ‘A’ গ্রেড ছিল। তবে বোর্ড চ্যালেঞ্জের পর নতুন ফলাফলে দুজনেরই পয়েন্ট বেড়ে চমৎকারভাবে ‘A+’ বা জিপিএ-৫ এসেছে।
তিনি আরও আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীর নতুন সাফল্যের পর আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রীদের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত গর্বিত এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

