কুলাউড়ায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সাদ্দাম-সাদিক: মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: 7:33 PM, September 26, 2026 | আপডেট: 7:33:PM, September 26, 2026

চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার দলীয় লোকজনকে চাকরি দিয়ে ‘নব্য ফ্যাসিবাদী আচরণ’ শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করলে দিল্লি, পিন্ডি কিংবা লন্ডনেও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়। এসএসসিতে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী এ প্লাস পায়, এইচএসসিতে সেই সংখ্যক শিক্ষার্থী এ প্লাস পায় না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের কর্মপরিকল্পনার ওপর। তাই এই সময়টিকে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের কাজে কাজে লাগাতে হবে।

চাকরিতে নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষার সব ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভাইভা ও ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে শুধু নিজেদের লোকদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে চাকরির সুযোগের কথা বলেছে। তাহলে নির্দিষ্ট দলের লোকজনকেই কেন চাকরি দেওয়া হবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতিদান এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি নিজেদের দলের অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা এমপি, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁদের সময়ে সমাজে দাঙ্গাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, দেশের নেতারা দেশের কল্যাণ ও দেশপ্রেমের কথা বললেও নেতৃত্বে যাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়নি এবং ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার সঠিকভাবে করা যায়নি। দেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরকার সফল হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন ও বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার সাত মাসের মধ্যেই আবার বৈষম্য শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নতুন প্রজন্মই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নেতার নামে স্লোগান, শোডাউনসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর চলবে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগ দেবে।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা পল্টন জামায়াতের আমির শাহিন আহমদ খান, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মুন্তাজিম, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর আমির মো. জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শাহরিয়ার, কলেজ শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।