জগন্নাথপুরের টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, উদ্বোধনের অপেক্ষায় ধুলো জমছে ২৫ কোটির ভবনে

আলী আহমেদ আলী আহমেদ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: 1:42 AM, October 12, 2026 | আপডেট: 1:42:AM, October 12, 2026

জগন্নাথপুর উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার নতুন দিগন্তের স্বপ্ন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট। জমি অধিগ্রহণ, দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম। অলস পড়ে থাকা কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো দেখে ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়। কিছুদিন আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি হস্তান্তর করেছে এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকেও মিলছে প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির দেয়াল ও মেঝেতে ধুলোর আস্তরণ জমেছে। নেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। হস্তান্তরের পর শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য কেনা দামি যন্ত্রপাতি ও মালপত্র ধুলো জমে নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
স্থানীয়রা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ভবন, আসবাব, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি; সবই প্রস্তুত। কিন্তু জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় দুয়ারে ঝুলছে তালা।
জগন্নাথপুর ও আশপাশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হলেও নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি চালু না থাকায় দূরের জেলায় গিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী বাড়তি যাতায়াত ও আবাসন খরচ চালাতে না পেরে ঝরে পড়ছেন।

 

রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালু করা উচিত। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ছদরুল ইসলাম জানান, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার নতুন দুয়ার খুলবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, পোশাক ও বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি দ্রুত চালু হলে স্থানীয় তরুণরা স্বল্প খরচে যুগোপযোগী শিক্ষা পেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন বলেন, স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত একজন লোক দিয়ে এটি দেখভাল করা হচ্ছে। বস্ত্র অধিদপ্তর থেকে এখনও জনবলের চূড়ান্ত চাহিদা পাঠানো হয়নি।