বার্মিংহামে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনকে গণসংবর্ধনা

বৃহত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রবাসীদের মিলনমেলা; বার্মিংহাম–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট ও সিলেট বিমানবন্দরে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি

প্রকাশিত: 7:11 PM, October 16, 2026 | আপডেট: 7:11:PM, October 16, 2026

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে বসবাসরত বৃহত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনের সম্মানে এক বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় বার্মিংহামের ইকবাল ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বার্মিংহাম থেকে সিলেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘এনআরবি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান কমিউনিটি নেতারা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা এবং গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের (জিএসসি) ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আঙ্গুর মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা মোশাহিদ তালুকদার। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সুহেল আহমেদ ও রুহেল আমিন তালুকদার।

গণসংবর্ধনায় বৃহত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার কমিউনিটি নেতা, সমাজসেবী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর আবদুল মায়েন চৌধুরী (সুমন)।

 

 

 

 

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতারা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের চেয়ারম্যান সালেহ আহমেদ, সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খসরু খান এবং জিএসসির ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ গুলজার।

বৃহত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুহেব মিয়া তালুকদার, বাসিত মিয়া, আলী নিয়াজ, জহির আলী, আকিকুর রহমান ও আতিকুর রহমান।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ জামসেস আলী, আফজার হোসেন, জালাল উদ্দিন, আবদুল আজিজ গিলমান, বাবরুল ইসলাম ও কবির মিয়াসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সামাজিক, পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, জনকল্যাণ ও আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

 

 

বার্মিংহাম–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি দাবি তুলে ধরেন গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের চেয়ারম্যান সালেহ আহমেদ এবং সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান খসরু খান। তাঁরা বার্মিংহাম থেকে সিলেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানান।

কমিউনিটি নেতারা বলেন, বার্মিংহাম, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাঁদের অনেকেই পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেন।

বার্মিংহাম থেকে সিলেটে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিশেষ করে প্রবীণ যাত্রী, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং নিয়মিত দেশে যাতায়াতকারী প্রবাসীরা উপকৃত হবেন। এতে যাতায়াতের দুর্ভোগ, অতিরিক্ত ভ্রমণসময় ও অন্যান্য জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

 

 

 

 

সিলেট বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব

অনুষ্ঠানে উত্থাপিত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ‘এনআরবি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা।

কমিউনিটি নেতারা বলেন, বাংলাদেশে এসে প্রবাসীরা প্রায়ই জমিজমা, সম্পত্তির মালিকানা, ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ, সরকারি কাগজপত্র এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য, পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

প্রস্তাবিত সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রবাসীরা ভূমির রেকর্ড ও দলিলপত্র, সম্পত্তির মালিকানা, ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেতে পারবেন। প্রয়োজনে তাঁদের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

বক্তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানো, বিনিয়োগ, দাতব্য কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারি সেবাকে আরও সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীবান্ধব কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বাড়বে এবং দেশের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

 

 

 

 

 

জনসম্পৃক্ততা, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ

গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আয়োজক, কমিউনিটি নেতা, অতিথি ও উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিত্ব, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তাঁদের সমস্যা জানা এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের মূল্যায়নে জনগণকে গঠনমূলক সমালোচনা, পরামর্শ ও মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের সমস্যা, জনসেবাসংক্রান্ত জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া তাঁর নজরে আনা হলে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সহযোগিতার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

 

খাঘাটা খানবাড়ি কমপ্লেক্স ও শিক্ষা প্রকল্প পরিদর্শনের আমন্ত্রণ

অনুষ্ঠানে ছাতক এলাকার সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষার উন্নয়নে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনকে খাঘাটা খানবাড়ি কমপ্লেক্স, মসজিদ, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

উদ্যোক্তারা জানান, এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং উদ্যোগটির উন্নয়নে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তাঁকে আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

 

প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে পৃথক মতবিনিময়

গণসংবর্ধনা শেষে কাজী মুহাম্মদ আঙ্গুর মিয়ার বাসভবনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনের সঙ্গে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের প্রতিনিধিদের পৃথক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মো. ফিরুজ খানও অংশ নেন।

মতবিনিময়কালে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে বাংলাদেশে তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রবাসীদের যৌক্তিক দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

 

ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রত্যয়

গণসংবর্ধনায় বৃহত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাজারের পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বক্তারা বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা জন্মভূমির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। দেশের শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁদের অবদান আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য সভাপতি কাজী আঙ্গুর মিয়া, সমন্বয়কারী মোশাহিদ তালুকদার এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী সুহেল আহমেদ ও রুহেল আমিন তালুকদারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকে এবং বাংলা কাগজ মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনসহ অনুষ্ঠান আয়োজনে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কমিউনিটি নেতা, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিনিধি, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সবশেষে দেশ ও প্রবাসের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।