শুক্রবার সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত: নূর, রহমত ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদ
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নিয়মিত বিশেষ করে জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ, কিয়ামতের দিন নূর এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদ রয়েছে।
সূরা কাহাফের ফজিলত ও সওয়াব সম্পর্কে বিভিন্ন সহিহ হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। বিশেষ করে জুমার দিনে এ সূরা তেলাওয়াত করার প্রতি ইসলামে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যারা আন্তরিকতার সঙ্গে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করেন, কিয়ামতের দিন তা তাদের জন্য নূর (আলো) হবে। পাশাপাশি দাজ্জালের ভয়াবহ ফিতনা থেকে রক্ষারও সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পবিত্র শুক্রবারের করণীয় ও বর্জনীয়
আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ যেমনভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে পড়বে, তার জন্য কেয়ামতের দিন সেটা নূর (আলো) হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং: ২২২১)
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজতে থাকবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ৮০৯; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৩২৩)
আরও পড়ুন: ওয়ালসল মসজিদে উসমান(রা:) পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, যেমনভাবে নাজিল করা হয়েছে, সেভাবে যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য সেটা নিজের অবস্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত নূর হবে। আর যে ব্যক্তি সূরাটির শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে, সে দাজ্জালের গণ্ডির বাইরে থাকবে এবং দাজ্জাল তার ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং: ১০৭২২)
বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাতে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন। তার কাছে দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময় একটি মেঘখণ্ড এসে তাকে ঘিরে ফেলে। মেঘটি ক্রমেই কাছে আসতে থাকলে তার ঘোড়া ছোটাছুটি শুরু করে। পরদিন তিনি বিষয়টি রাসূল (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, ‘ওটা ছিল সাকিনা (আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত), যা কোরআন তেলাওয়াতের বরকতে নাজিল হয়েছিল।’ (সহিহ বোখারি, হাদিস নং: ৫০১১, ৩৬১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৭৯৫)
আরও পড়ুন: মক্কার আকাশে কোরআনের প্রথম আয়াত
নাওয়াস ইবনে সাময়ান (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাজ্জালকে পাবে, সে যেন সূরা কাহাফের শুরুর অংশ পাঠ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৯৩৭; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৩২১; তিরমিজি, হাদিস নং: ২২৪১)
আরও পড়ুন: ‘কোরআন তেলাওয়াত করলেও সওয়াব, শুনলেও সওয়াব: মিজানুর রহমান আজহারী
এভাবে বিভিন্ন সহিহ হাদিসে সূরা কাহাফের গুরুত্ব, জুমার দিনে এর তেলাওয়াতের ফজিলত এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মুসলমানদের জন্য নিয়মিত, বিশেষ করে প্রতি জুমায়, এ সূরা তেলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল।

