বাংলাদেশের ফূটবল দলের অভিজ্ঞ রক্ষণ বাগের প্রহরী তপু বর্মণ মনে করেন, আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ‘এ’ বেশ কঠিন। তবে ঘরের মাঠের সমর্থন এবং দলের বর্তমান আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ খেলবে শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে। যদিও নেপাল বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তপু বর্মণ বলেন,
“আমাদের গ্রুপটি সত্যিই কঠিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনেক দিন খেলা হয়নি। তারা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভালো খেলেছে এবং তাদের দলে গোলরক্ষক ছাড়া প্রায় সবাই প্রবাসী ফুটবলার। তাই তারা খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।”
তিনি আরও বলেন,
“ভুটানের বিপক্ষে আমরা সম্প্রতি খেলেছি, তাই তাদের সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে। তবে নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হবে। সেপ্টেম্বরে আরও একটি হোম ম্যাচ থাকায় আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০২১ সালের নভেম্বরে মাহিন্দা রাজাপাকসা ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় লাল-সবুজের দল। একই বছর মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অবশ্য বাংলাদেশ ১-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল।
ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড মিশ্র। ২০১৬ সালে এএফসি এশিয়ান কাপ প্লে-অফে ৩-১ এবং ২০২৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হারের স্মৃতি থাকলেও, ২০২৫ সালে সর্বশেষ দেখায় বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
দুই দশকের অপেক্ষা ভাঙার লক্ষ্য
২০০৫ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর আর কখনও ফাইনালে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তপু বর্মণের লক্ষ্য এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো।
তিনি বলেন,
“এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সান মারিনোকেও হারিয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা এখন একটি ঐক্যবদ্ধ দল এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারি।”
তপু আরও বলেন,
“সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা সবাই জানে। আমরা সবসময় ২০০৩ সালের শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখি। প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের উন্নতি করতে পারলে ঘরের মাঠেই শিরোপা জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে।”
ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার সুযোগ
এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৩ সালে নিজেদের মাঠেই প্রথম ও একমাত্র সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০০৯ সালে সেমিফাইনাল এবং ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত খেলেই বিদায় নিতে হয়েছিল স্বাগতিকদের।
নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ এবার ঘরের মাঠের সমর্থনকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের শিরোপাখরা কাটানোর প্রত্যাশায় মাঠে নামবে।
আরও পড়ুন: নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফুটবল ক্লাবগুলো

