জগন্নাথপুরে নৌকা বাইচ, নদীর দুই তীরে উৎসুক জনতার ঢল

আলী আহমেদ আলী আহমেদ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: 10:15 AM, July 26, 2026 | আপডেট: 12:33:PM, August 3, 2026

 

নৌকা বাইচ বাংলার শতাব্দীপ্রাচীন লোকঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল ও বিলবেষ্টিত জনপদে এই প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের আয়োজনই নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একসময় জমিদার, স্থানীয় সমাজপতি ও গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিভিন্ন উৎসব ও মেলা উপলক্ষে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হতো। বৈঠিয়ালদের সমবেত সুর, করতাল ও ঢোলের তালে বৈঠা চালানোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আজও গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তোলে।

 

 

 

আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়েও নৌকা বাইচ গ্রামীণ মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

 

 

 

 

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর বাদাউড়া এলাকায় শনিবার (২৫ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাহারি নামের নৌকাগুলোর বৈঠিয়ালরা গানের তালে তালে করতাল ও ঝাঞ্জের ছন্দে একযোগে বৈঠা চালালে পুরো নদীজুড়ে সৃষ্টি হয় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সেই দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

 

 

 

 

 

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে উপজেলা সদরের বাদাউড়া এলাকায় এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে নদীর দুই তীরে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকে নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে নদীর মাঝখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

 

 

 

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় শাহ দ্বীন মোহাম্মদ তরী, জলপবন, ময়ূরপঙ্খী, বাংলার পবনসহ বাহারি নামের মোট ১৮টি নৌকা অংশ নেয়। প্রথম রাউন্ড শেষে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিটি দৌড়ে বৈঠিয়ালদের প্রাণপণ বৈঠা চালানো এবং দর্শকদের করতালি-উল্লাসে পুরো নদী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

 

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা সন্ধ্যার আগেই প্রতিযোগিতা শেষ করার চেষ্টা করছেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে শেষ পর্বের প্রতিযোগিতা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

 

 

 

 

স্থানীয়রা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি খেলা নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। প্রতি বছর এমন আয়োজন স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

 

 

 

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে এগোবে পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট পেশ

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, ৫ দোকানিকে অর্থদণ্ড