তথ্য গোপন করে হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা প্রদান করায় কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত: 8:58 PM, September 21, 2026 | আপডেট: 8:58:PM, September 21, 2026

হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান তথ্য গোপন রেখে শেষ হলেও তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের তথ্য মেলেনি। সম্মাননা নির্বাচন ও প্রদান-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেও জবাব না পাওয়ায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর আপিল করেছেন লেখক, নাট্যকর্মী ও প্রভাষক হাবিব খোকন।
হাবিব খোকন অভিযোগ করেন, সম্মাননা নির্বাচন ও প্রদান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চেয়ে গত ২৩ জুলাই জেলা শিল্পকলা একাডেমি, হবিগঞ্জের কাছে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আবেদন করেন। আবেদনে সম্মাননা নির্বাচনের প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পাশাপাশি একাডেমির হলরুমের সরঞ্জাম ও মেরামতসংক্রান্ত কিছু তথ্যও চাওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো তথ্য বা লিখিত জবাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সম্মাননা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব অসিত বরণ দাশ গুপ্তের কাছে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ২৪ ধারার অধীনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর আপিল করা হয়।
এরই মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। অর্থাৎ তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া তথ্য পাওয়ার আগেই সম্মাননা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
হাবিব খোকন বলেন, “সম্মাননা অনুষ্ঠান হয়ে গেছে, কিন্তু আমি এখনো চাওয়া তথ্য পাইনি। নির্বাচন কীভাবে হলো, কী মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করা হলো এবং সিদ্ধান্তের পেছনে কী নথি রয়েছে, এসব জানতেই তথ্য চেয়েছিলাম। তথ্য না পাওয়ায় এখন আপিল করতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কাছে আমার আপিলের নিষ্পত্তি এবং চাওয়া তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যেহেতু জেলা শিল্পকলা একাডেমি হবিগঞ্জ এর কালচারাল অফিসার তথ্য প্রদান করতে পারেনি, সেক্ষেত্রে এখানে অসচ্ছতার প্রশ্নটি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে বলে আমি মনে করি।”

এই বিষয়ে কথাসাহিত্যিক ও গবেষক আখতার উজ্জামান সুমন বলেন “আমি এমনও ক্যাটাগরিতে এমনও ব্যক্তিকে নির্বাচিত হতে দেখেছি, যিনি ওই ক্যাটাগরির নামটাও ঠিকমতো বলতে পারবে কিনা সন্দেহ। যেমন: তাহমিনা বেগম গিনি। এর নাম বাংলাদেশ।”
হবিগঞ্জের জনপ্রিয় কবি তাইজুল ইসলাম বলেন, “এখানে বেশির ভাগ ক্যাটাগরি তে যাদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছেন ওনারা এই ক্যাটাগরি সম্পর্কে জানেন না।

শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক ও নাট্যকার শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু বলেন, “সত্য প্রকাশের ভুমিকা নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

লোক গবেষক সাহেদ বিন জাফর বলেন, “হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষাক্ত থাবায় প্রকৃত সংস্কৃতাঙ্গন আজ লাইফ সাপোর্টে। কারণ অযোগ্য, কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অপদার্থ কোনো লোক যোগ্যতার আসনে আসীন হলে যা’হয়।
তথ্য অধিকার আইনের তথ্য চাওয়া এটা আপনার আমার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। শুধু তাই নয়! চাওয়ার পর প্রদর্শন বা না দেয়াটাও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের অপরাধও বটে। খোকন ভাই আমি একজন লোক সংস্কৃতি জগতের অবলুপ্ত পুঁথি সাহিত্যের পুঁথি লেখক (নবীগঞ্জে শাহ্ জালাল) ও পাঠক হিসেবে আপনাকে বলতে চাই।
এব্যাপারে যতসব দুর্নীতি অনিয়ম নির্মূল করতে আপনার সাথে আছি।”

হবিগঞ্জের সিনিয়র প্রাবন্ধিক ও গল্পকার সাইফুর রহমান কায়েস বলেন, “তথ্য অধিকার আইনে তথ্য পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী আপিল করার কথা। খোকন একজন প্রতিশ্রুতিশীল বিজ্ঞান লেখক, নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী এবং কলেজ শিক্ষক। তিনি তথ্য চেয়ে আবেদন করেও যখন ব্যর্থ হয়েছেন তখন তিনি শিল্পকলার ডিজি বরাবরে আপিল করেছেন। কিন্তু এতেও তিনি কোনো সাড়া পান নি। এখন তার উচিৎ আদালতে মামলা করা। আসামী হবেন সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল অফিসার অসিতবরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিন। সাথে আছি।”