জগন্নাথপুরে ভিউয়ের নেশায় প্রতারণামূলক ভিডিও ভাইরাল, দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের গ্রেপ্তারের দাবি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা (৫০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মাখন মিয়া নামে এক ব্যক্তির মারধর ও জোরপূর্বক মাথার চুল কেটে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিও কে দুই জনই ফানি ভিডিও হিসেবে দাবি করেছেন। জগন্নাথপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুই জনই ফানি ভিডিও বানাতে এমনটা করেছেন বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ফানি ভিডিও বানানোর বয়ান শুনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা দুই জনকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের সোনাই পাগলা কে রানীগঞ্জ এলাকার বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা মাখন মিয়া মারধর করে চুল কেটে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পূর্ব বিরোধের জের এ ঘটনা ঘটেছে বলে দুই জন দাবি করেন। এনিয়ে ব্যপক সমালোচনা তৈরি হলে মাখন মিয়া কে গ্রেপ্তারের দাবি উঠে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুইজনই বিষয়টি ফানি ভিডিও বানাতে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যায়। অসংখ্য মানুষ এ ধরনের ফানি ভিডিওর নামে জগন্নাথপুরের সন্মানহানি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কথা তুলে ধরে তাদের কে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ইতিমধ্যে দুই জনই ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছে।
জগন্নাথপুরের সামাজিক সংগঠন ফেয়ার ফেইস এর মহাসচিব শামীম আহমদ বলেন, এধরণের জালিয়াতিমূলক ভিডিও তৈরী করে ভাইরাল আর ভিউ ব্যবসার লোভে ভিডিও তৈরী করে জগন্নাথপুরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানাচ্ছি।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমাদের নজরে এলে আমরা দুই জনের জবানবন্দি সংগ্রহ করি। তারা এঘটনায় ক্ষমা প্রার্থী।ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে জানায়।

