দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন: সংঘর্ষ, দাবি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন: সংঘর্ষ, দাবি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

প্রকাশিত: 7:02 PM, July 21, 2026 | আপডেট: 7:02:PM, July 21, 2026

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলা কাগজ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party–CJP)-এর আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংসদ অভিমুখে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হন এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

 

 

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ‘লা রোহা’র দাপট

 

 

 

 

 

আন্দোলনের পটভূমি

শিক্ষা খাতে দুর্নীতি, বিশেষ করে NEET মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই অসন্তোষ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হওয়া CJP ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ যুব আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত।
  • ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ।
  • দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কার।

 

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

 

 

 

দিল্লিতে সংঘর্ষ

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে, পাথর নিক্ষেপ করে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে। পুলিশের তথ্যমতে, ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

 

 

আইএমএফের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা: কেন নতুন চুক্তির পথে বাংলাদেশ?

 

 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ

CJP নেতারা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, শতাধিক আন্দোলনকারী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অনেকেই আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে এসব অভিযোগের অনেক বিষয়ে পুলিশ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।

 

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা: ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির কথা জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

 

 

 

সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা

প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন এই বিক্ষোভে নতুন গতি এনে দেয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনকারীরা তার মুক্তি, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার এবং সরকারের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

 

 

রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৫৮ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক

 

 

সর্বশেষ পরিস্থিতি

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, CJP আপাতত নতুন করে সংসদমুখী মিছিল না করার ঘোষণা দিলেও দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। এদিকে দিল্লি পুলিশ রাজধানীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

 

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষা-সংক্রান্ত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষেরও বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে সরকার ও আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।