মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাত দ্রুত বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, তবে মার্কিন নাগরিক মুক্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত
সাম্প্রতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে তেহরান অভিযোগ করেছে, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয় মেটাতে ৮০ বিলিয়ন ডলার চায় যুক্তরাষ্ট্র
ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংঘাতের বিস্তার রোধে প্রতিবেশী দেশগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজের ‘সহনশীলতার লড়াইয়ে’ কে জিতবে যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইরান ?
বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এই উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। অনেক শিপিং কোম্পানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কিছু রুটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত, জাতীয় ইস্যুতে বাড়ছে গুরুত্ব
এদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা।
চীনের সাংহাইয়ে ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্স অংশ নিলেন বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আগামী কয়েক দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে সবার নজর রয়েছে।

