মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে। নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য সোমবার আবারও রেকর্ড পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলেও। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনাকারী দেশগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ভারতের ইরানমুখী রপ্তানি নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম সীমিত করার কারণে আরও কমে যেতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সংকটের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি বলে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি না হলে বর্তমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

