দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ পর্যায়ে, রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত দেখছে বাংলাদেশ
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ
ঢাকা, ২৬ জুলাই: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের আশা, চলমান আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের রপ্তানি খাত, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউএইর পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনাও এগিয়ে চলছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৪ শতাংশ: এইচএসবিসি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমতে পারে বা অনেক ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, সিরামিক, হোম টেক্সটাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবাসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউএই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের শিল্প, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগী। ফলে এই দুই দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে এগোবে পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
এদিকে সরকার জানিয়েছে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গেও ভবিষ্যতে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর যে শুল্ক সুবিধা কমে যেতে পারে, তা মোকাবিলায় এসব চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়ছে
বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

