নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

প্রকাশিত: 12:22 PM, July 28, 2026 | আপডেট: 12:22:PM, July 28, 2026

 

আজ ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে “Hepatitis: Let’s break it down”—অর্থাৎ হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথে বিদ্যমান সব বাধা দূর করার আহ্বান।

 

 

লাইসেন্স ফেরত পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, শর্তসাপেক্ষে সেবা চালুর অনুমতি

 

 

হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহজনিত একটি রোগ। এটি প্রধানত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই—এই পাঁচ ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।

 

 

আন্দোলনের ডাক এলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও ভাইরাল হেপাটাইটিস এখনো বিশ্বব্যাপী একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০২৪ সালে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ও সি-জনিত জটিলতায় প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিসের অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে বহু মানুষ দীর্ঘদিন অজান্তেই ভাইরাস বহন করেন। পরে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

হামের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

 

 

 

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা রয়েছে। নবজাতকদের জন্মের পরপরই এই টিকা দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি-এর কোনো টিকা না থাকলেও আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেন, যদি সময়মতো রোগ শনাক্ত হয়।

 

 

 

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট: অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপদ ইনজেকশন, ব্যক্তিগত রেজর বা টুথব্রাশ অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 

মশা তাড়ানোর ঘরোয়া ৭ উপায়

 

 

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে হেপাটাইটিস পরীক্ষা, সচেতনতামূলক সেমিনার, র‌্যালি, স্বাস্থ্যক্যাম্প এবং গণসচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, সহজলভ্য পরীক্ষা এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছরগুলোতে হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।