জগন্নাথপুর হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর ঢল: লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ, জেনারেটরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

আলী আহমেদ আলী আহমেদ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: 1:02 AM, August 4, 2026 | আপডেট: 1:02:AM, August 4, 2026

 

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তীব্র গরমের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। প্রতিদিনই ৪০ থেকে ৫০ জন নতুন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং এবং ওয়ার্ডে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদিন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ১৬৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে শিশু ১১০ জন, পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ২৯ জন। ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশু।

 

 

 

সোমবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

 

 

 

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান বন্ধ থাকে। জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তীব্র গরমে বিশেষ করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

 

 

 

উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি গ্রামের পাভেল মিয়া বলেন, “দুই দিন আগে আমার দুই বছরের ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাচ্ছি।”

 

 

 

নন্দিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পলাশ মিয়া, যার সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, বলেন, “রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেকেই সিট না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফ্যান না চলায় গরমে শিশুরা আরও বেশি কষ্ট পাচ্ছে।”

 

 

 

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জেরিন বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু। রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

 

 

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, “তীব্র গরমের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ওয়ার্ডে ব্যবহারের জন্য আমাদের কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএসের মাধ্যমে শুধু আলো জ্বালানো হয়। তবে ওয়ার্ডে ফ্যান চালানোর জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

 

 

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে জগন্নাথপুরেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৯ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

 

 

 

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ১

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট পেশ