জগন্নাথপুরে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরোধান

প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪০:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

 

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

উজান থেকে থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ জলমগ্ন হলেও সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পানির নিচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

নলুয়ার হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিন ও রাতে বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল উত্তোলন করতে পারেননি।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেল একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। দারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব।
কথা হয় সাবেক চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনধির দাস নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান,নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল উত্তোলন করতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা শ্রমিক সংকট ভূগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। তার ধারণা কমপক্ষে দেড়- দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
নলুয়ার হাওরের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, গৌরাঙ্গ দাস, হরিন্দ্র দাসসহ অনেক কৃষক বৃষ্টির পানিতে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবি ঘটছে। তাদের দাবি হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ এবার তাদের জন্য মরণফাঁদ হয়েছে।
নলুয়ার হাওরের ভুরাখালি গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী মিনহাজুর রহমান ওলিদ জানান, নলুয়ার হাওরের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। অকেজো স্লুইসগেট ও পানি নিস্কাশনের সুবিধা না থাকায় চোখের সামনে পাকা ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। ডুবে গেছে ধান শুকানোর খলা।পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
এদিকে অতিবৃষ্টিতে জগন্নাথপুরের মইয়া ও পিংলার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরজুড়ে জলাবদ্ধতায় আধা-পাকা ফসল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ধান তুলতে কষ্টে আছেন। এরমধ্যে টানাবৃষ্টি ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনো ক্ষতির পরিমান বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবছর জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৪শ’ হেক্টও জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন জানান, আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় চেষ্টা করছি।