টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জগন্নাথপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান

প্রকাশিত: 12:34 AM, July 10, 2026 | আপডেট: 12:34:AM, July 10, 2026

 

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:


টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে রানীগঞ্জ বাজারে হাঁটুপানি জমে যায়। এছাড়া রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুশিয়ারার পানি বেড়ে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া, পাইলগাঁও, আলাগদিসহ রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, কদরপাড়া এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক গ্রামের রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পার্শ্ববর্তী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে ক্লাস পরিচালনা করছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আবু হাসান মিলন বলেন, কুশিয়ারার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের সড়কে হাঁটুপানি জমেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ব্যবসা পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল এখন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে কুশিয়ারার পানি বাড়লে বাজার প্লাবিত হয়। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রেতাদেরও যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় পানি উঠে গেছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, রানীগঞ্জ বাজারের একাংশ প্লাবিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম জানান, বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় পাশের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যালয়ে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে।

এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে। তিনি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং উজানের ঢল আরও বাড়লে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।