ম্যানচেস্টারে শাহজালাল মসজিদের উদ্যোগে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রধান অতিথি ছিলেন হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী

প্রকাশিত: 1:32 PM, October 14, 2026 | আপডেট: 1:32:PM, October 14, 2026

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে রবিবার (১১ অক্টোবর) তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারস প্রদান করেন উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক, শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।

 

 

মাহফিলে লন্ডন, মিডল্যান্ডস, নর্থ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক আলিম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

 

মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী এবং লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার মাওলানা লুকমান আহমদ চৌধুরী সাদীসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

প্রধান অতিথি হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী সহীহ বুখারী শরীফ থেকে দারস প্রদান করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের আলোকে তিনি মানবসেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবার-পরিজনের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

 

 

তিনি বলেন, বিধবা, মিসকিন, অসহায় ও এতিম মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এ ধরনের মানবসেবামূলক কাজের সওয়াব আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ব্যক্তি কিংবা রাতে ইবাদত ও দিনে রোজা পালনকারী ব্যক্তির সওয়াবের সমতুল্য। ইসলামে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। একইভাবে নিজের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা করা এবং স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়াও সদকা হিসেবে গণ্য হয় বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে।

 

 

মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মা-বাবার খেদমতে সন্তানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ করে যাঁরা মা-বাবাকে দেশে রেখে প্রবাসে বসবাস করছেন, তাঁদের দেশে গেলে মা-বাবার কবর জিয়ারতের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা ও উত্তম চরিত্র গঠনের বিষয়ে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, অন্যের ভালো কিছু দেখে অন্তরে আনন্দ অনুভব করা, মানুষের দুঃখ-কষ্টে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত দরুদ শরীফ ও ইস্তিগফারের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

তাসাউফ ও আত্মিক পরিশুদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের তরিকার ইমাম। তাঁর মাধ্যমে তাসাউফ তথা তাজকিয়ায়ে নফস ও আত্মশুদ্ধির মহান চর্চা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের শিক্ষা ও চর্চা প্রসারে তাঁদের পীর ও মুর্শিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সারা জীবন অসামান্য খেদমত আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। কোরআন তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মূল্যবান উত্তরাধিকার।

 

আউলিয়ায়ে কেরামের রেখে যাওয়া দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতায় শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে পরিচালিত বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার খেদমত আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হওয়ার জন্য তিনি দোয়া করেন। পাশাপাশি ইন্তেকালকারী সকল মুসলমানের মাগফিরাত কামনা করেন।

 

 

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট এবং শাহজালাল জামে মসজিদ, কিথলির ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফিজ হেলাল উদ্দিন।

 

মসজিদের ইমাম হাফিজ আবদুল হামিদ শাহানের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসজিদের ভাইস চেয়ারম্যান গনি আহমদ চৌধুরী।

 

 

অনুষ্ঠানে ওয়ালসলের শামসুদ্দোহা শিল্পীগোষ্ঠী এবং ওল্ডহামের দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর নাশিদ পরিবেশনা উপস্থিত মুসল্লিদের মুগ্ধ করে। ধর্মীয় আলোচনা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নাশিদ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মাহফিলটি এক সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

 

সম্পূর্ণ মাহফিল সঞ্চালনা করেন শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব মাওলানা খায়রুল হুদা খান।

 

 

পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং ইন্তেকালকারী মুসলমানদের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাহফিলের প্রধান অতিথি শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।