শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশিত: 10:50 PM, July 27, 2026 | আপডেট: 10:50:PM, July 27, 2026
২০১৩ সালের বহুল আলোচিত শাপলা চত্বর অভিযান ও সহিংসতার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

২০১৩ সালের বহুল আলোচিত শাপলা চত্বর অভিযান ও সহিংসতার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সোমবার ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

 

 

অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, হতাহতের ঘটনা এবং পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

 

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন: সংঘর্ষ, দাবি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

 

 

 

 

 

২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ঘটনা

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের পূর্ব ঘোষিত ১৩ দফা দাবিতে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বড় সমাবেশের আয়োজন করে। সারাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ওই সমাবেশে যোগ দেন।

 

 

দিনভর সমাবেশ চলার পর রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরা যৌথ অভিযান চালায়। মধ্যরাতে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাবেশে আগত ছাত্র জনতার উপর ব্যাপক গুলি বর্ষণ, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে।

 

অভিযানের সময় গুলির শব্দ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। হেফাজতে ইসলাম দাবি করে, ওই অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেয় এবং ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ অস্বীকার করে।

 

 

 

আরও পড়ুন: যোগ্যতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

 

 

বিতর্ক ও তদন্ত

শাপলা চত্বর অভিযান নিয়ে দেশ-বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল।

ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অভিযানের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারপক্ষের দাবি ছিল, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

 

 

 

 

আরও পড়ুন: আন্দোলনের ডাক এলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

 

 

 

 

ট্রাইব্যুনালের বর্তমান কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে ২০১৩ সালের ঘটনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শুরু হলো। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম, শুনানি ও তদন্তের বিষয়গুলো এগিয়ে যাবে।

 

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলাকালে অভিযোগের সত্যতা, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করা হবে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।