আন্দোলনের ডাক এলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ

প্রকাশিত: 10:00 PM, July 25, 2026 | আপডেট: 10:00:PM, July 25, 2026
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।

 


 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:

 

 

বিরোধী দলীয় প্রধান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, যে কোনো সময় আন্দোলনের জন্য ডাক আসতে পারে। তাই ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন সম্পূর্ণভাবে দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে এবং তা আরও তীব্র হবে।”

 

 

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন: সংঘর্ষ, দাবি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

 

 

 

শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন।

 

 

ডলারের চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

 

 

 

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভালোভাবে জনগণের দাবি মেনে নিন। অন্যথায় এই দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই শিখে গেছে কীভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হয়। জীবন দেওয়া, গুলি খাওয়া কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করার মধ্য দিয়েও জনগণ মুক্তির পথ থেকে সরে দাঁড়ায়নি।”

 

 

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং এরপর কী

 

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একসময় নিজেদের নির্যাতিত দাবি করলেও এখন তারা অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা একসময় মজলুম ছিলেন, তারাই এখন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থার অনুসরণ শুরু করেছেন। জনগণ কোনো নতুন স্বৈরাচার মেনে নেবে না।”

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত, জাতীয় ইস্যুতে বাড়ছে গুরুত্ব

 

 

 

জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না এবং দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যাব না।”

 

 

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৩৭০ জন গ্রেপ্তার, বিভিন্ন অপরাধে ৪০ মামলা

 

 

 

তিনি দাবি করেন, পরিবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা বা অপমান করার সুযোগ নেই। গণরায়ের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জিত হবে।”

 

 

 

 

 

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রশাসন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দলীয়করণ চলছে। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “জনগণ একবার স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও কেউ যদি একই ধরনের শাসন কায়েম করতে চায়, জনগণ তাকেও প্রত্যাখ্যান করবে।”

 

 

 

 

 

সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার মতে, প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো এখনও পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এখনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়নি এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন কাজও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে রয়েছে। দ্রুত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানান তিনি।

 

 

 

 

 

সমাবেশে বক্তারা সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তারা রাজনৈতিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

জগন্নাথপুরে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, ৫ দোকানিকে অর্থদণ্ড

 

 

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

 

 

 

 

সমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান ও দাবির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবে।