ইউএনওদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশ পরিচালনায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থেকে মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত।
দেশ পরিচালনায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। একজন সরকারি কর্মকর্তা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন না, তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও তৈরি হয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, বৈষম্য কিংবা অনিয়ম যাতে মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের সেবা করার সুযোগকে শুধু চাকরির অংশ হিসেবে দেখলে চলবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এটি একটি বড় আমানত। মানুষের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আরও পড়ুন: যোগ্যতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
মাঠ প্রশাসনে মানবিকতার ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের নিজ নিজ উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সরাসরি শুনতে হবে। অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের ছোট ছোট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কর্মকর্তাদের বাস্তবমুখী ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের স্বার্থকে রাখতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায়, প্রবীণ, নারী, শিশু এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
আরও পড়ুন: সংসদীয় কার্যক্রমে গতি আনতে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা জোরদার
উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকা
উপজেলা পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউএনওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি কাজ করে থাকে।
এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে, সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে কতটা উপকৃত হচ্ছে এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না—এসব বিষয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নজরদারি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং তারা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পায়।
জবাবদিহি ও সততার বিকল্প নেই
প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা থাকলে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং প্রশাসনের কার্যক্রমও আরও কার্যকর হয়।
তিনি ইউএনওদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো ধরনের প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে এবং জনগণের সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।
আগামী প্রজন্মের জন্য মানবিক বাংলাদেশ
আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হচ্ছে এমন একটি দেশ রেখে যাওয়া, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে এবং নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
তিনি বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে শুধু সরকারের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা প্রশাসন আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী হয়ে উঠবে। ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সততা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

